যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত নয়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার জন্য প্রস্তুত নয়

প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরানে আক্রমণ চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত নয়, কারণ ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ওয়াশিংটনের কাছে নেই। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সীমিত সময় ও সম্পদ থাকা এবং আশেপাশের মিত্র রাষ্ট্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারা মূল কারণে তেহরান-উত্তরাধিকারী উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে, মার্কিন নৌবাহিনী USS আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহৎ নৌবহর মোতায়েন করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌবহরের লক্ষ্য ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ তৈরি করা এবং নতুন পারমাণবিক চুক্তির দিকে তেহরানকে প্ররোচিত করা। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, ইরানের স্থাপনা ও বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো বর্তমান সময়ে “অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ” এবং সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে এর প্রভাব অপ্রত্যাশিত হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পেন্টাগন বর্তমানে জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরব ও কাতারসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে অতিরিক্ত থাড ব্যাটারি এবং প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করছে। এর লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে তাদের সেনা ও স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা।

গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় একটি গোপন বোমা হামলা সংঘটিত হওয়ার পর তেহরান ইসরাইলকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় এবং কাতারের আল-উদেইদ আমেরিকান বিমান ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায়। তবে ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আগেভাগে সতর্কবার্তা দেওয়ায় তৎক্ষণাৎ ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের পূর্ব সতর্কতা ইরানের সামরিক সক্ষমতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রকে সংযমী হওয়ার বার্তা দেয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রোববার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তা কেবল দুটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আঞ্চলিক সংঘাতের আকার নেবে।” খামেনির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুতর ঝুঁকি তুলে ধরে।

অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি শুক্রবার মস্কো সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনার সময় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পক্ষের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল।”

এই ঘটনাগুলি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক জটিলতার দিকে ইঙ্গিত করছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থানই প্রতিফলিত করছে যে তারা সরাসরি হামলার আগে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত নানা বিষয় সঠিকভাবে যাচাই করতে চায়। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিশোধের সম্ভাবনা এমন আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে যা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক বাজার ও জ্বালানি নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার পথে সরাসরি যাওয়া এখনই লাভজনক বা নিরাপদ মনে করছে না। প্রেসিডেন্টের প্রশাসন এবং পেন্টাগন উভয়ই প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক। এ অবস্থায়, কূটনৈতিক চাপ, নৌবহরের মোতায়েন এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করে যুক্তরাষ্ট্র চায় যে ইরানকে পারমাণবিক চুক্তির জন্য প্ররোচিত করা হোক, তবে সংঘাত এড়িয়ে যাওয়া হোক।

মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই নান্দনিক সমীকরণ একটি জটিল কূটনৈতিক খেলা, যেখানে সরাসরি হামলা না চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগ করতে চায়। তবে, ইরান তাদের প্রতিরোধ শক্তি ও প্রতিশোধের সক্ষমতা প্রদর্শন করে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং যেকোনো ছোটো ঘটনায় আঞ্চলিক উত্তেজনা তীব্র আকার নিতে পারে।

এভাবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার প্রস্তুতিতে এখনো প্রয়োজনীয় সমর্থন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে তৈরি করতে পারেনি। ইরানের প্রতিক্রিয়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক সক্ষমতা এবং কূটনৈতিক বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ওয়াশিংটন সরাসরি আক্রমণের পথে যাচ্ছে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত