কাইয়ুমের প্রার্থিতা নিয়ে রিটে আজ শুনানির সম্ভাবনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৯ বার
কাইয়ুমের প্রার্থিতা নিয়ে রিটে আজ শুনানির সম্ভাবনা

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকা-১১ আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং নির্বাচনী হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে করা রিট আবেদনের শুনানি আজ মঙ্গলবার হতে পারে বলে জানা গেছে। এনসিপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম এই রিটটি দায়ের করেছেন, যেখানে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রিট আবেদনটি ৮২ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটকারীর আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আজই আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হতে পারে।

রিট আবেদনে মূলত দুটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম বাংলাদেশের পাশাপাশি ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী হলফনামায় তিনি এই দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছেন। আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, পরবর্তীতে বিভিন্ন সূত্র ও নথির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসে, যা সংবিধান ও নির্বাচনী আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরা জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য বিবেচিত হন। সেই সঙ্গে নির্বাচনী হলফনামায় কোনো তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা গুরুতর অপরাধ। এই দুটি বিষয় সামনে রেখেই হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে এবং আদালতের কাছে কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

ঢাকা-১১ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত একটি আসন। গুলশান এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড এবং সবুজবাগ এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখেরও বেশি। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৮৭৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। বিপুল সংখ্যক ভোটারের কারণে এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসার বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের একটি অংশও হলফনামার তথ্য যাচাইয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সেই প্রেক্ষাপটেই এনসিপি প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম আদালতের দ্বারস্থ হন।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং এখানে স্বচ্ছতা ও আইনানুগতা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। কোনো প্রার্থী যদি শুরু থেকেই তথ্য গোপন করেন বা ভুল তথ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন, তাহলে তা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য নয়, ভোটারদের জন্যও প্রতারণার শামিল। এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই রিট নিয়ে কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে দলটির একাধিক নেতাকর্মী অনানুষ্ঠানিকভাবে দাবি করছেন, কাইয়ুমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকতে না পেরেই প্রতিপক্ষ আইনি পথ বেছে নিয়েছে। তাঁরা আশা প্রকাশ করছেন, আদালত সঠিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত দেবেন।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রিটের শুনানি ও রায় শুধু ঢাকা-১১ আসনের জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের নির্বাচনী মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। দ্বৈত নাগরিকত্ব ও হলফনামার তথ্য গোপনের অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পাশাপাশি আরও আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে। আবার অভিযোগ প্রমাণিত না হলে রিট খারিজ হয়ে যাবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতেই এগোবে।

ঢাকা-১১ আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এরই মধ্যে গতি পেয়েছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয়। এই অবস্থায় হাইকোর্টের শুনানি ও সম্ভাব্য আদেশ নির্বাচনী পরিবেশে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই আইনি লড়াই ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ বাড়ছে। তবে গণতন্ত্রের স্বার্থে এসব অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তি জরুরি। আদালতের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, এম এ কাইয়ুম ঢাকা-১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যেতে পারবেন কি না।

আজকের সম্ভাব্য শুনানি তাই শুধু একটি মামলার শুনানি নয়; এটি নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সাংবিধানিক বিধান ও রাজনৈতিক নৈতিকতার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার দিকেই এখন তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত