জাপানে ভারি তুষারপাত, মৃতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
জাপানে ভারি তুষারপাত, মৃতের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাপানের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত ভারি তুষারপাতের কারণে ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহত এবং নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯১ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা, যিনি তার বাড়ির বাইরে তিন মিটার উঁচু তুষারের নিচে পড়ে মারা যান। এই ভয়াবহ তুষারপ্রবাহের কারণে দেশের কিছু অঞ্চল সরবরাহ ও যোগাযোগে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ আওমোরিতে।

সরকারি সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। আওমোরি প্রদেশের গভর্নর সোইচিরো মিয়াশিতা জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারা বয়স্ক ও একাকী বসবাসকারীদের সহায়তা করছে, যাদের জন্য তুষার পরিষ্কার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। প্রদেশটির আঞ্চলিক রাজধানী আওমোরি শহরে সরাসরি রাস্তা ও ঘরবাড়ি থেকে তুষার পরিষ্কারের সময় স্থানীয় কর্মীরা চাপা পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। শহরে ১.৮ মিটার পর্যন্ত তুষারের দেয়াল তৈরি হয়েছে, যা সরানোতে স্থানীয়দের জন্য দারুণ চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের একটি বিশেষ বৈঠক করেছেন। তিনি মন্ত্রীদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন যাতে শিগগিরই মৃত্যু ও দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে তুষারপাতের কারণে সৃষ্ট বিপদের মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জাপান সাগর উপকূলে তীব্র ঠান্ডা বাতাসের কারণে স্বাভাবিকের দ্বিগুণেরও বেশি তুষারপাত দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

অগ্নিনির্বাপন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভারি তুষারপাতের কারণে মোট ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৯১ বছর বয়সী কিনা জিনও, যিনি তার বাড়িতে তুষারপাতের নিচে চাপা পড়ে মারা যান। পুলিশ ধারণা করছে, তার ছাদ থেকে তুষার পড়ে এই দূর্ঘটনা ঘটে। তার মৃতদেহের পাশে একটি অ্যালুমিনিয়াম বেলচা পাওয়া গেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্বাসরোধের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক করেছে, তুষার মেলানোর সময় উষ্ণতার বৃদ্ধি এবং তুষারের আকার ও ঘনত্বকে বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে ছাদের নিচে তুষার পড়া সর্বোচ্চ বিপজ্জনক, যা মানুষের জন্য প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি বাড়ি ও রাস্তায় সতর্কতা প্রয়োজন।

সরকারি ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছাড়াও জনসাধারণের সচেতনতা জরুরি। আওমোরির গভর্নর জানিয়েছেন, প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বয়স্ক ও একাকী মানুষদের নিরাপদে রাখা এবং জরুরি পরিষেবা প্রদান করা প্রধান চ্যালেঞ্জ। সেনাদের সহায়তায় তুষার পরিষ্কারের কাজ করা হচ্ছে, যাতে মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি না পায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তুষারপাতের কারণে তারা দৈনন্দিন জীবনে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন। চলাচল ব্যাহত, বাজারে খাদ্য সরবরাহ সীমিত, স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমও সীমিত। যদিও সেনা ও স্থানীয় প্রশাসন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে, তবুও বরফে চাপা পড়া দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

এই ভারি তুষারপাত জাপানের সীমানার ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। সমুদ্র থেকে আসা ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে পাহাড়ি ও সমতল এলাকার তাপমাত্রার পার্থক্য তুষারপাতের মাত্রা বাড়াচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে এবং জরুরি পরিষেবা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিরাপত্তা ও উদ্ধার কাজে স্থানীয় সরকার, সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকরা একযোগে কাজ করছেন। তবে পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। স্থানীয়দের আহ্বান, বাড়ির ছাদে থাকা তুষার সরানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে এবং একা কাজ করা থেকে বিরত থাকতে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, খাবার ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করছে।

এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ জাপানের ইতিহাসে নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক তুষারপাতের মাত্রা এবং মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক। প্রশাসনের পাশাপাশি জনসাধারণের সতর্কতা ও সহায়তা এ সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই বিপদসংকুল এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারেন।

সামগ্রিকভাবে, জাপানের এই তুষারপ্রবাহে প্রাণহানি, অট্টালিকা ক্ষতি এবং জীবনযাত্রার ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। বরফের চাপা ও বিপজ্জনক এলাকার তথ্য জনগণকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত