প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার বিকেলে তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় পরিকল্পিতভাবে বাধার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, তার পূর্বনির্ধারিত জনসভা সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া গ্রামে ছিল। সভায় যাওয়ার পথে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুযায়ী সড়কের ওপর বালু ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা দ্রুত সেই বাধা সরিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলে বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে যেভাবে বালুর ট্রাক রাখা হয়েছিল, ঠিক সেই কায়দাতেই আজ আমার পথ আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের এমন কর্মকাণ্ড শুধু তার প্রচারণা নয়, সমগ্র নির্বাচনী পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
জনসভাস্থলে পৌঁছে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার উপস্থিতির কারণে ওই এলাকার বাজারের সব দোকানপাট এমনকি জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দোকানও বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ এলাকায় অনেক বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী এবং অসুস্থ রোগী রয়েছেন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওষুধের দোকান বন্ধ করে দেওয়া অত্যন্ত অমানবিক এবং ন্যায়সঙ্গত নয়।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।
শামা ওবায়েদ সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট হওয়ার অভিযোগও তোলেন। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য প্রার্থীরা নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাচ্ছে। আমরা তাদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছি না, কারণ আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। তবে ১৭ বছরের সংগ্রামের পর যদি নির্বাচনী পরিবেশ এমনভাবে হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।’
তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অন্য প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা, যাতে ভোটাররা স্বচ্ছন্দে অংশগ্রহণ করতে পারেন। তবে পরিকল্পিত বাধা দিলে গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হয়।’
স্থানীয় সূত্রগুলোও এই অভিযোগের সত্যতা জানায়। এলাকাবাসীর একাংশের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাস্তা অবরোধ ও দোকান বন্ধের ঘটনা নতুন নয়, তবে এমন কার্যক্রম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ অপরিহার্য।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, নির্বাচনের সময় প্রতিটি ভোটারকে তার ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শান্তিপূর্ণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ভোটারদের স্বাভাবিক জীবন, বাজার ও ওষুধের দোকান সচল রাখা সকল রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের দায়িত্ব।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফরিদপুর জেলা নির্বাচন অফিসের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রার্থীর অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেন এবং ভোটের পরিবেশকে নিরাপদ ও ন্যায্য রাখার নিশ্চয়তা দেন। শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যে আবারও উল্লেখ করেন, ‘আমরা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সম্মান করি। তবে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের লঙ্ঘন।’
সংবাদটি প্রমাণ করে যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝে সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শামা ওবায়েদের অভিযোগ যে পরিকল্পিত বাধা ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করেছে, তা স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ জরুরি।
শামা ওবায়েদ তার বক্তব্যের সমাপ্তিতে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও ন্যায্য নির্বাচনের পক্ষের। অন্যদের উদ্দেশ্যও যদি একই হয়, তবে একসাথে সবাই ভোটারদের স্বচ্ছ এবং নিরাপদ ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে পারি।’