অযথা হর্ন বাজানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৮ বার
অযথা হর্ন বাজানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ

প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা: অযথা হর্ন বাজানো শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এমনটাই জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি সতর্ক করেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে রাজধানীর যানজটপূর্ণ ও ঘনবসতি এলাকা থেকে অপ্রয়োজনীয় শব্দ দূষণ কমানো সম্ভব হবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শিক্ষাচত্বরে ঢাকা মহানগর পুলিশ আয়োজিত হর্ন বাজানো ও শব্দদূষণ প্রতিরোধ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “অযথা হর্ন বাজানো শুধুই বিরক্তির কারণ নয়, এটি আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শব্দদূষণ রোধে একটি আইন প্রণয়ন করেছে, যা আগে কোনো সরকার করত না। এই আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে হর্ন বাজানো ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকায় যেসব এলাকা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে। নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায়, যেখানে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে। এ ধরনের এলাকা এবং সেগুলোর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে বলে তিনি জানান।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “বদঅভ্যাসের কারণে যানবাহন চালকরা অতিরিক্ত হর্ন বাজান। অযথা হর্ন বাজানো বন্ধ করতে জরিমানা এবং শাস্তির ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে শব্দদূষণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো রাজধানীসহ দেশের শহরগুলোকে ধ্বনি দূষণমুক্ত করা।”

উল্লেখযোগ্য যে, বাংলাদেশে যানজট এবং শহুরে এলাকা ঘন বসতি থাকায় হর্ন বাজানো একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা যায়। যাত্রী এবং পথচারীদের ওপর বিরক্তিকর প্রভাব ফেলে এ ধরনের আচরণ। পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা মহানগর পুলিশ মিলে এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশেষভাবে ট্রাফিক জ্যামের সময়ে অযথা হর্ন বাজানো কমানোর জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি, জরিমানা ও শিক্ষামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “শহরের যেকোনো অংশে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে সাধারণ মানুষও আইন মানবে এবং শব্দদূষণ কমবে। এটি শুধু স্বাস্থ্যগত কারণেই নয়, সামাজিক পরিবেশ এবং মানুষের মানসিক শান্তির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই, নাগরিকরা নিজেদের দায়িত্ব বুঝুক এবং হর্ন বাজানো কমাতে সচেষ্ট হোক।”

তিনি আরও যোগ করেন, “শব্দদূষণ কমানো মানে শুধু বিরক্তি কমানো নয়, এটি পরিবেশবান্ধব নগর গঠন ও নাগরিকদের জীবনের মান উন্নয়নের অংশ। এখন আইন হাতে এসেছে, এবং এর কার্যকর প্রয়োগে আমরা দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছি। নাগরিকরা এই প্রক্রিয়ায় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে রাজধানী শহরের পরিবেশ অনেক শান্তিময় হয়ে উঠবে।”

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন এলাকায় হর্ন বাজানো ও শব্দদূষণ রোধে অভিযান চালানো হচ্ছে। শিক্ষাচত্বরে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাসহ নাগরিক সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে। তারা হর্ন বাজানো ও শব্দদূষণ কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য পরিবেশ উপদেষ্টার বক্তব্য শুনেছেন এবং আইন প্রয়োগে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষ এই উদ্যোগের স্বাগত জানাচ্ছে। তারা মনে করছে, হর্ন বাজানো ও শব্দদূষণ কমানো মানে শুধু শান্তি নয়, বরং স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শব্দদূষণ দীর্ঘমেয়াদে মানুষের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার্থী ও রোগীর জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করে।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তাঁর বক্তব্যে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সবাই যদি সচেতন হই, নিজের দায়িত্ব পালন করি, তবে ঢাকা শহরের পরিবেশ অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ ও স্বাস্থ্যকর হবে। এটি একটি ধীর কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পদক্ষেপ, যা শহরের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সাহায্য করবে।”

এ ধরনের কার্যক্রম এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, ঢাকা শহরে অযথা হর্ন বাজানো এবং শব্দদূষণ কমে যাবে। পাশাপাশি, নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং তারা স্বেচ্ছায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত