৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ইশতেহার ঘোষণার সম্ভাবনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার
বিএনপি ইশতেহার ঘোষণা ২০২৬

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির নির্বাচনি প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ হিসেবে শিগগিরই ইশতেহার ঘোষণা হতে পারে। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন জানিয়েছেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

মাহদী আমীন বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা, পর্যালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে এই ইশতেহার প্রস্তুত করা হয়েছে। কেবল একটি পরিকল্পনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলেই নির্ধারিত তারিখে ইশতেহার ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক সংকট, নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক, আন্দোলন ও পাল্টা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশ এই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপির ইশতেহার কেবল দলীয় প্রতিশ্রুতির দলিল নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে দলটির দৃষ্টিভঙ্গি ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এবারের ইশতেহারে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ, প্রশাসনিক সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারসহ জনজীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। দলটি দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক দাবি ও আন্দোলনের কথা বলে আসছে, সেগুলোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনাও ইশতেহারে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি এমন একটি ইশতেহার দিতে চায়, যা কেবল নির্বাচনের জন্য নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ—এই তিনটি বিষয় মাথায় রেখেই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির ইশতেহার ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ সামনে আসায় নির্বাচনী মাঠে নতুন গতি সঞ্চার হতে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। ক্ষমতাসীন দল ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর ঘোষিত বা সম্ভাব্য কর্মসূচির সঙ্গে বিএনপির ইশতেহারের তুলনা শুরু হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, এবারের ইশতেহার প্রণয়নে দল অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে। অতীতের ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি, সেগুলোর বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং জনমত—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই নতুন ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামতও এতে গুরুত্ব পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

গুলশানের কার্যালয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় মাহদী আমীন বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই দলটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইশতেহার তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, ইশতেহার ঘোষণার পর দল সারাদেশে তা জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় এটি মূল দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানটি রাজধানীতে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন। ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চায়।

রাজনীতির মাঠে বর্তমানে নানা অনিশ্চয়তা থাকলেও ইশতেহার ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণাকে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতির একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে থাকা দলটি এবার নির্বাচনী প্রস্তুতিতে দৃশ্যমানভাবে সক্রিয় হচ্ছে—এমন বার্তাই এতে প্রতিফলিত হচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ইশতেহার নিয়ে কৌতূহল বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্য, কর্মসংস্থান, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও নাগরিক অধিকার ইস্যুতে বিএনপি কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেবে।

সব মিলিয়ে, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা হতে পারে—এই ঘোষণাটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সেই ঘোষণার দিকেই নিবদ্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত