ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা হবে জাতীয় স্বার্থে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার
ইরান যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনা সম্পূর্ণভাবে দেশের জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে কোনো আলোচনায় দেশকে ক্ষতি না হয় এবং সমঝোতা সর্বাধিক ন্যায়সঙ্গত ও সমতাভিত্তিক হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে বলেছেন, হুমকি ও অযৌক্তিক দাবির প্রভাব থেকে মুক্ত একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব।

এই পদক্ষেপ আসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি জানিয়েছেন যে পারমাণবিক চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু ঘটতে পারে।” গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠায়, যা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে। ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন এখনও তেহরানের সঙ্গে সমাধানে পৌঁছানোর আশা রাখছে, তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ইরানও স্পষ্ট করেছে যে পারমাণবিক আলোচনার বিষয়বস্তু সীমিত হবে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আলোচনার বাইরে থাকবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমাবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তি সম্ভব, যদি ওয়াশিংটন ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ পথে এগোতে রাজি হয়। তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি কখনোই সম্ভব হবে না—এই নিশ্চয়তা থাকলে একটি চুক্তি অর্জন করা সম্ভব।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের হামলা চালায়, তা সহজেই আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তেহরান এই সংকেত দিয়েছেন যে তারা কোনো রকম আগ্রাসনের জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আশা প্রকাশ করেছেন, শান্তিপূর্ণ ও সংলাপভিত্তিক সমাধান উভয় পক্ষের জন্যও উপকারি হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই চলমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি উভয়কেই প্রভাবিত করছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক পরিকল্পনা এবং বিশ্বমঞ্চে বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা জরুরি। পেজেশকিয়ানের নির্দেশনায় ইরানের কূটনৈতিক দলও সেই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে, যাতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হয় এবং কোনো পক্ষই অযাচিত চাপের শিকার না হয়।

বিশ্বজনীনভাবে এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং গোটা অঞ্চলের কূটনৈতিক ভারসাম্যের জন্যও একটি সংকেত বহন করে। যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা ও ইরানের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সমঝোতা খুঁজে বের করা নতুন চ্যালেঞ্জ।

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই চাইছে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখা হোক, তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা জটিলতার কারণে চূড়ান্ত সমঝোতা সময়সাপেক্ষ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।

এই আলোচনার ফলাফল কেবলই পারমাণবিক চুক্তি বা উত্তেজনা হ্রাসে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনঃস্থাপনা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে বিশ্বের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া, অর্থনীতি সহ নানা ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত