প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের স্বাধীনতা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি। তবে বর্তমানে একটি গোষ্ঠী সেই ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ডে বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, একাত্তর আমাদের নতুন দেশ দিয়েছে, আমাদের ভূখণ্ড দিয়েছে। সেই সঙ্গে আমাদের সামনে অনেক সুযোগ উন্মুক্ত করেছে, যা আমাদের বেঁচে থাকার এবং এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করেছে। এখন সময় এসেছে আমাদের সন্তানদের সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ দেওয়ার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী সেই ইতিহাসকে পেছনে ফেলার চেষ্টা করছে। একাত্তরকে ভুলে গেলে আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তিও হারিয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একাত্তর হচ্ছে আমাদের মূল অস্তিত্ব। এটাকে নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।”
সভায় ফখরুল আরও বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তিনি এই প্রক্রিয়াকে ‘বেহেস্তের টিকিট বিক্রি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রভাব আমাদের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
ফখরুল বলেন, “ভোট আমাদের একমাত্র সুযোগ, যা আমরা পাঁচ বছরে একবার পাই। এটি একটি আমানত, যা কখনো নষ্ট বা খেয়ানত করা উচিত নয়। আমরা সেই প্রার্থীকে ভোট দেব যিনি সঠিকভাবে এই ভোটের মর্যাদা রক্ষা করবেন।” তিনি ভোটকে শুধু একটি রাজনৈতিক অধিকার নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
সভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জনগণকে প্রভাবিত করার জন্য যারা ইতিহাস বিকৃত করছে, তারা মূলত স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা শহীদদের ত্যাগকে হেনস্তা করতে চাইছে। কিন্তু দেশের প্রকৃত মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধারা তা কখনো মেনে নেবেন না। দেশের মানুষের দায়িত্ব, একাত্তরের ইতিহাসকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা এবং ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার যথাযথভাবে প্রয়োগ করা।
ফখরুল ইসলাম সভায় আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দেশের গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তরকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ইতিহাস ও স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি জনগণকে নিজেদের ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করলেই নয়, দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
সভায় ফখরুলের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যে, স্বাধীনতার ইতিহাস, একাত্তরের স্মৃতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষাই এই নির্বাচনের মূল লক্ষ্য। তিনি জনগণকে বলেন, ভোট দিতে গিয়ে তাদের উচিত বিবেচনা করা যে, কোন প্রার্থী সত্যিকারভাবে দেশের ইতিহাস ও জনগণের অধিকার রক্ষা করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটগ্রহণের মাধ্যমে দেশবাসী সেই প্রার্থীর নির্বাচিত করবে, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সক্ষম।
এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মী এবং সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন এবং ফখরুল ইসলামের বক্তব্যে গভীর সাড়া দেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভোট নয়, ইতিহাস সংরক্ষণ ও জনগণের সচেতন অংশগ্রহণই দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। ফখরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, একাত্তরের মূল্যবান ত্যাগের স্মৃতিকে ভুলে যাওয়া মানে দেশের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা, যা কোনো মূল্যে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
ফখরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বা রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী কর্মকাণ্ড দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি না করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ ভোটের মর্যাদা বজায় রেখে সঠিক ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব বেছে নেবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতার সঠিক ধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখবে।