চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মবিরতি প্রতিবাদ

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নিয়ে চুক্তি বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ এবং বদলি হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বদল আদেশ বাতিলের দাবিতে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ মঙ্গলবার থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করছে। সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি পুরো চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম স্তব্ধ করে দিয়েছে।

গত সোমবার বন্দর ভবন চত্বরে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা মো. হুমায়ুন কবীর তৃতীয় দিনের মতো দৈনিক আট ঘণ্টার কর্মবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সেই কর্মসূচি চলাকালেই নতুন ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা কোনো কাজে যোগ না দেওয়ায় বন্দরের প্রধান ফটকেও কোনো ট্রাক বা লরি প্রবেশ করেনি। ফলে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির একটি মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। বন্দর থেকে দেশের বিশাল পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য আসে এবং যায়। বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিভিন্ন ইয়ার্ডে কনটেইনারের জট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রোজার পণ্যসহ জরুরি পণ্য বহনের জন্য অপেক্ষমান ৩৫টি মাদার ভেসেল বন্দরে বন্দি রয়েছে। লাইটার বা বেসরকারি ডিপো ও অফডকের অপারেশনেও মারাত্মক ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বন্দর বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, কারণ টানা তিন দিনের ধর্মঘট ইতিমধ্যেই বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ জানাচ্ছে, সরকারের নতুন উদ্যোগ এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক স্থাপনা হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা এ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। শ্রমিকরা অভিযোগ করছেন, সরকার তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই কর্মচারীদের বদলি আদেশ জারি করেছে, যা শ্রমিকদের প্রতি অন্যায় ও হয়রানিমূলক। তাদের দাবি, বিদেশিদের হাতে বন্দর হস্তান্তর বন্ধ করতে হবে এবং বদলি আদেশ বাতিল করা ছাড়া আন্দোলন শেষ হবে না।

শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের দেশে এবং দেশের অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা নেই। তিন দিনের অচলাবস্থার পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে হস্তান্তর করা হবে না, সেই নিশ্চয়তা পাওয়ার আগেই আন্দোলন চলবে।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মবিরতি চলার কারণে বন্দরে পণ্য পরিবহন ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া, ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন যে, চলমান ধর্মঘট অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিরাপদ ও সুষ্ঠু রাখতে আলোচনা বা সমাধানমুলক পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

শ্রমিকদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হচ্ছে যে, তারা দেশের স্বার্থ রক্ষায় সচেতন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের পরিচালনায় সম্পৃক্ত করা হলে দেশের অর্থনীতি ও বন্দর পরিচালনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই তারা বাধ্য হয়ে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে। এই কর্মবিরতি চলাকালীন শ্রমিকরা দাবি জানিয়েছেন, সরকার যদি তাদের দাবি পূরণ করে এবং বন্দরের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তারা আন্দোলন স্থগিত করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে এই কর্মবিরতি দেশের ব্যবসায়িক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ার ৫০ শতাংশের বেশি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। যদি বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তা দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক ও সরকারের মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে সমাধান ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও শ্রমিকরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের দাবির সমাধান না পেলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি চলমান থাকায় বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংকট তৈরি হচ্ছে। বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখার জন্য সকল পক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত