বিশ্বকাপের বাইরে কামিন্স, টেস্টেই মনোযোগ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩ বার
বিশ্বকাপের বাইরে কামিন্স, টেস্টেই মনোযোগ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের

প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখ প্যাট কামিন্স। নেতৃত্ব, ধারাবাহিকতা ও বড় মঞ্চে সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে ইনজুরির কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে না—এ খবর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য যেমন হতাশার, তেমনি বাস্তবতারও এক নির্মম স্মারক। পিঠের চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় কোনো ঝুঁকি না নিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। কামিন্স নিজেই এটিকে দেখছেন একটি ‘ছোটখাটো প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ—ক্রিকেটের তিনটি বড় বৈশ্বিক শিরোপাই জেতা খুব কম ক্রিকেটারের ভাগ্যে জোটে। প্যাট কামিন্স সেই বিরল কৃতিত্বের অধিকারী। বিশেষ করে অধিনায়ক হিসেবে তার সাফল্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে গত বছরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের পর থেকেই নিয়মিত ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে। চোটের কারণে ম্যাচ খেলা, অনুশীলন করা—সবকিছুই হয়ে পড়েছে নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত।

সবশেষ অ্যাশেজ সিরিজেও কামিন্সের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। পুরো সিরিজে তিনি খেলতে পেরেছিলেন মাত্র একটি টেস্ট ম্যাচ। তবুও তার দল ইংল্যান্ডকে ৪–১ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নেয়, যা কামিন্সের গড়ে তোলা দলীয় কাঠামো ও নেতৃত্বের শক্তিকেই প্রমাণ করে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে এই সময়টা তার জন্য সহজ ছিল না। একজন ফাস্ট বোলারের জন্য পিঠের চোট মানেই দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা, আর সেখান থেকেই এসেছে বিশ্বকাপ না খেলার কঠিন সিদ্ধান্ত।

অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কামিন্স স্পষ্ট করেই বলেছেন, তার শরীর এখন ভালো অবস্থায় থাকলেও পুরোপুরি ম্যাচ ফিট হতে আরও সময় প্রয়োজন। পিঠের একটি হাড় সম্পূর্ণ স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে অতিরিক্ত বিশ্রাম জরুরি। পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে ফেরার আগে সেই জায়গাটিকে ঝুঁকিমুক্ত করতে চান তিনি। তার ভাষায়, সময়টা শেষ হয়ে গিয়েছিল বলেই বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থেকেও সরে দাঁড়াতে হয়েছে।

কামিন্স জানান, অ্যাডিলেড টেস্টের পরপরই মেডিকেল টিম বুঝতে পেরেছিল যে তার চোট সেরে উঠতে চার থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। শুরুতে মনে হয়েছিল চার সপ্তাহের বিশ্রামই যথেষ্ট হবে, কারণ শারীরিকভাবে তিনি তখন বেশ ভালো অনুভব করছিলেন। কিন্তু পরবর্তী স্ক্যানে দেখা যায়, হাড়টি পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে আরও দু’এক সপ্তাহ প্রয়োজন। সেই বাড়তি সময়ই বিশ্বকাপের প্রস্তুতিকে অসম্ভব করে তোলে। ফলে সময়সূচি অত্যন্ত টাইট হয়ে যায় এবং ঝুঁকি নেওয়ার সুযোগ আর থাকে না।

এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে কামিন্সের অংশগ্রহণ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগে খেলা মানেই উচ্চমাত্রার চাপ ও ম্যাচের ঘনত্ব। কামিন্স স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কতটা এগোয়, তার ওপরই সবকিছু নির্ভর করবে। শরীর পুরোপুরি সাড়া না দিলে আইপিএলেও তাকে দেখা নাও যেতে পারে। তার কাছে এখন সবচেয়ে বড় বিষয়, দীর্ঘমেয়াদে নিজেকে ফিট রাখা।

২০২৬ সালের দিকে তাকালে কামিন্সের লক্ষ্য একেবারেই পরিষ্কার—টেস্ট ক্রিকেট। অস্ট্রেলিয়া টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। গত বছরের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার যন্ত্রণা এখনো ভুলে যায়নি অজিদের শিবির। সেই ম্যাচে জয়ের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা দুই দশকেরও বেশি সময় পর প্রথম আইসিসি শিরোপার স্বাদ পায়। কামিন্সের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া এবার সেই হতাশা পেছনে ফেলে নতুন করে ইতিহাস গড়তে চায়।

কামিন্সের বক্তব্যে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে আর এই চোট নিয়ে ভাবতে হবে না। তখন নিশ্চিন্তে সব টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারবেন এবং দলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন আগের মতোই। একজন অধিনায়ক হিসেবে তার এই দৃষ্টিভঙ্গি দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়—তাৎক্ষণিক সাফল্যের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কামিন্সের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে যুক্ত করা হয়েছে বাঁহাতি সুইং বোলার বেন দারসুইসকে। পাওয়ারপ্লেতে কার্যকর বোলিংয়ের জন্য পরিচিত দারসুইস নতুন বলের দায়িত্ব সামলাতে পারেন দক্ষতার সঙ্গে। তবে কামিন্সের সঙ্গে তার তুলনা করাটা সহজ নয়। কামিন্স ইনিংসের সব ধাপেই বল করতে পারতেন—নতুন বল, মিডল ওভার কিংবা ডেথ ওভার—সব জায়গায়ই তিনি ছিলেন নির্ভরতার প্রতীক। সেই শূন্যতা পূরণ করা যে সহজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।

তবুও অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ দলটি অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। মিচেল মার্শের নেতৃত্বে এই দল বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার প্রত্যাশা জাগাচ্ছে। কামিন্স না থাকলেও দলটি নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে মরিয়া থাকবে, আর সেই সাফল্য হয়তো কামিন্সের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকেও মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করবে।

সব মিলিয়ে, প্যাট কামিন্সের বিশ্বকাপ না খেলা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ধাক্কা হলেও, তার সিদ্ধান্তে আছে পরিণত চিন্তার ছাপ। একজন অভিজ্ঞ অধিনায়ক হিসেবে তিনি জানেন, কখন থামতে হবে এবং কখন এগোতে হবে। বিশ্বকাপের আলোচনার বাইরে থেকে হয়তো তিনি থাকবেন কিছুদিন, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটের মঞ্চে ফেরার অপেক্ষায় এখনই তাকিয়ে আছে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত