কারাবন্দিদের পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার
পোস্টাল ভোট শুরু

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনী বিষয়ক গণভোটকে সামনে রেখে দেশের কারাগারে অবস্থানরত কারাবন্দিদের জন্য পোস্টাল ভোট গ্রহণ কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এই ভোট গ্রহণ কার্যক্রম চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ইসির আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সালীম আহমাদ খান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “আজ থেকে কারাবন্দিদের জন্য পোস্টাল ভোট গ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। কারাবন্দিরা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে তাদের ভোট প্রদান করতে পারবেন।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তর থেকে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এই সংখ্যার মধ্যে আইনি হেফাজতে থাকা বা কারাবন্দি ভোটার রয়েছেন ৬ হাজার ২৪০ জন।

এসময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান আরও জানান, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৭ জন ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ভোট প্রদানকারীদের জন্য ইসি বিশেষভাবে মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে যাতে ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়।

পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা মূলত আইনি হেফাজতে থাকা কারাবন্দি ও সরকারের নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের সকল ভোটারকে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোট প্রদান করতে পারবেন, যা ডিজিটাল ও নিরাপদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে, কেবল সেগুলোই গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যাতে ভোট গ্রহণ ও গণনার প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগীভাবে সম্পন্ন করা যায়।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই পোস্টাল ভোট কার্যক্রম দেশের ভোটারদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করবে। কারাবন্দিরা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে দেশের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।

ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র ও কারাগারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচনি কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। এছাড়াও ইসি নিশ্চিত করছে যে, ভোটারদের তথ্য ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রক্ষা করা হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কারাবন্দিদের জন্য ভোট প্রদান প্রক্রিয়া সহজ, দ্রুত এবং নির্ভরযোগ্য করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষভাবে কারাবন্দিদের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং প্রতিটি নাগরিককে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন বার্তা দিচ্ছে যে, ভোটাররা পোস্টাল ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারেন, যা আগামী নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করবে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের অধিকাংশের জন্য উপস্থিত থেকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, যারা পদক্ষেপগত কারণে উপস্থিত হতে পারছেন না তাদের জন্য পোস্টাল ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশন আশা প্রকাশ করেছে যে, কারাবন্দি ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের জটিলতা দেখা দেবে না এবং সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। এটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভোটের প্রমাণিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত