চাকরিজীবী মায়েদের স্বস্তি দিতে সিলেটে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র ও কর্মশালা প্রয়োজন কতটুকু, সুবিধা কতদূর?

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৯ বার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

নিয়মিত অফিসের কাজ, একটানা বৈঠক, ফাইলের স্তূপ, আর সময়মতো বেতন—সবকিছুর মধ্যেই সিলেটের চাকরিজীবী মায়েদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় শিশুদের নিরাপদ দেখাশোনা। শহরজুড়ে সরকারি-বেসরকারি নানা কর্মক্ষেত্রে কর্মরত অগণিত নারী প্রতিদিন সন্তানদের দায়িত্ব নিয়ে এক অদৃশ্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এই লড়াই কিছুটা হলেও সহজ করতে সিলেটে গড়ে উঠেছে কয়েকটি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বা ‘ডে-কেয়ার সেন্টার’। পাশাপাশি সচেতনতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য গড়ে উঠছে শিশু দিবাযত্ন কর্মশালা।

সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকাজুড়ে হাতে গোনা যে কয়টি অনুমোদিত দিবাযত্ন কেন্দ্র আছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত। বেশির ভাগ কেন্দ্রেরই ধারণ ক্ষমতা সীমিত, খরচ তুলনামূলক বেশি, আর প্রশিক্ষিত শিশু যত্নকারীর সংখ্যাও চাহিদার তুলনায় কম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

শহরের চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, উপশহর কিংবা শাহী ঈদগাহ এলাকার কিছু সরকারি দফতরে এখন ছোট পরিসরে হলেও দিবাযত্ন কক্ষ চালু হচ্ছে। এসব জায়গায় নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাখা হয়, মায়েরা অফিসের অবসরে এসে শিশুদের খোঁজখবর নিতে পারেন। তবে অনেকেই মনে করছেন, এ উদ্যোগ এখনো পর্যাপ্ত নয়।

শুধু শিশু রাখাই নয়, শিশুদের যত্নের পদ্ধতি, মানসিক বিকাশের কৌশল, খাবার ব্যবস্থাপনা—সবকিছুর জন্যই প্রয়োজন পেশাদার কর্মী আর সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা। এই চাহিদা পূরণে সিলেটে কিছু সংগঠন শিশু দিবাযত্ন কর্মশালা আয়োজন করছে। এসব কর্মশালায় মায়েদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সম্ভাব্য শিশুযত্ন কর্মীরাও।

সম্প্রতি সিলেট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও একাধিক বেসরকারি নারী উন্নয়ন সংস্থা যৌথভাবে কয়েকটি কর্মশালা পরিচালনা করেছে। এখানে অংশগ্রহণকারীরা শিখেছেন শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে রাখার উপায়, জরুরি স্বাস্থ্য সেবা, শিশুদের খাবার ও ঘুমের রুটিন এবং খেলাধুলার গুরুত্ব।

অফিসগামী মায়েরা বলছেন, এই ধরনের কর্মশালা ও ডে-কেয়ার সেন্টার যদি প্রতিটি বড় দফতর, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি অফিস চত্বরে বাধ্যতামূলকভাবে চালু করা যায়, তাহলে কর্মজীবী নারীর পেশাজীবন যেমন সহজ হবে, তেমনি তাদের সন্তানরাও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দময় পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সিলেটে এই মুহূর্তে সরকারি পর্যায়ে যথেষ্ট শিশুযত্ন কেন্দ্র নেই, অথচ প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছেই। দেশের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় সিলেটে এই চর্চা এখনো গতি পায়নি। একদিকে প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতা, অন্যদিকে জনসচেতনতা—দুটোই সমানভাবে প্রয়োজন।

শ্রমজীবী মায়েদের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আর এ-সংক্রান্ত সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে আরও ব্যাপক কর্মশালার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। অভিভাবকরা বলছেন, এটা কোনো বিলাসিতা নয়—শিশুদের সুস্থ মানসিক বৃদ্ধি আর কর্মজীবী নারীর কর্মস্থলে স্বস্তি নিশ্চিত করতে এটি এখন সময়ের দাবি।

একইসাথে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের মানোন্নয়ন, খরচ সহনীয় রাখা এবং প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি—সবমিলিয়ে সিলেটে যদি এই সেবা টেকসইভাবে বিস্তৃত হয়, তবে তা এককথায় নারীশ্রম শক্তিকে আরও দৃঢ়, কর্মক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা সচেতন মহলের।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত