হাসিনার গণভবনের বর্তমান অবস্থা কেমন?

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৬২ বার
হাসিনার গণভবনের বর্তমান অবস্থা কেমন?

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

এক সময় ছিল রাষ্ট্রক্ষমতার প্রতীক, আজ তা ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নির্মিত গণভবন, যা দীর্ঘদিন ধরে শুধু একজন রাজনৈতিক নেত্রীর ব্যক্তিগত আবাসনে পরিণত হয়েছিল, এখন রূপ নিয়েছে এক জনতার স্মারকে—একটি জীবন্ত জাদুঘরে, যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে একযুগের দম্ভ, প্রতিবাদ আর পতনের ইতিহাস।

২০০১ সালে মাত্র এক টাকার প্রতীকী ভাড়ায় শেখ হাসিনার নামে এই সরকারি ভবনটি ইজারা দেওয়া হয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সদিচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও, পরবর্তীতে বহুবার বিতর্কিত হয়ে ওঠে এটি। যদিও ২০০৯ সালে ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন’-এর মাধ্যমে এই ইজারার বৈধতা দেওয়া হয়, তথাপি জনমনে প্রশ্ন থেকেই যায়—কীভাবে জনগণের সম্পদ এমনভাবে একক দখলে যায়?

অন্য কোনো প্রধানমন্ত্রী কখনো এই বাড়িতে বসবাস করেননি। রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকারপ্রধানরা সাধারণত সেনানিবাসের সরকারি বাসভবনেই থাকতেন। ব্যতিক্রম ছিলেন শেখ হাসিনা। তার দীর্ঘ শাসনকালের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে ওঠে এই ভবন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেই প্রতীকই হয়ে ওঠে বিতর্ক ও বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই ভবনের দেয়াল ভেদ করে ঢুকে পড়ে হাজারো বিক্ষুব্ধ জনতা। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যেন বিস্ফোরিত হয় বছরের পর বছর জমে থাকা ক্ষোভ। স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনতার রুদ্রমূর্তি দেখা দেয় ঠিক সেই ভবনের সামনে, যেখানে দীর্ঘ সময় ধরে নেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত, যার প্রভাব পড়েছে সারা দেশের প্রতিটি ঘরে। সেই রাতে দেয়ালজুড়ে উঠে আসে বার্তা—“শেখ হাসিনা স্বৈরাচার”, “আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যাবে না”, “গণভবন জনগণের”—যা আজও মুছে ফেলা হয়নি, বরং ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।

সাংবাদিক বোরহানুল আশেকীন এ প্রসঙ্গে বলেন, “একটা সময় গণভবন ছিল দম্ভের প্রতীক, এখন সেটা ইতিহাসের স্মারক।” সাংবাদিক সাজেদা সুইটির ভাষায়, “গণভবন ছিল জনগণের সম্পদ, যা একনায়কত্বের প্রতীক হয়ে ওঠে। সেখানকার দেয়ালে জনগণের ক্ষোভ আজও স্পষ্ট।”

জনতার চাপ এবং টানা আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন। সঙ্গী হন তার বোন শেখ রেহানা। দেশ ছাড়েন দু’জনেই। এরপর জনগণের দাবিতে এবং নতুন সরকারের সিদ্ধান্তে গণভবন রূপ নেয় ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ। যেখানে সংরক্ষিত রয়েছে সেই ভয়াল রাতের চিহ্ন, ছিন্নভিন্ন নিরাপত্তা কাঠামো, ভাঙা ফার্নিচার আর দেয়ালে আঁকা বিপ্লবী স্লোগান।

এই জাদুঘর কেবল এক রাজনৈতিক যুগের অবসানের সাক্ষ্যই বহন করে না, বরং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য রেখে যায় এক কঠিন বার্তা—রাষ্ট্র জনগণের, আর ক্ষমতার অপব্যবহার হলে তার পরিণাম ইতিহাস কখনো ক্ষমা করে না।

গণভবন এখন আর কোনো নির্দিষ্ট নেত্রীর ঘর নয়, এটি হয়ে উঠেছে একটি জনগণের ঠিকানা—যেখানে লেখা রয়েছে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের এক অসাধারণ কিন্তু বেদনার্ঢ ইতিহাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত