প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অগ্রগতি এবং ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে অবস্থিত নির্বাচনী বেইজক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ র্যাপিড রেসপন্স ফোর্স তথা বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি হেলিকপ্টারযোগে ঝিনাইগাতীর মিনিস্টেডিয়াম এলাকায় এসে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর তিনি উপজেলা আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজে অবস্থিত নির্বাচনী বেইজক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে সৈনিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিজিবি প্রধানের এই পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরে ঝিনাইগাতী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে বজায় রাখা। মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বেইজক্যাম্পে আসার পর নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কন্ট্রোল এবং চেকপোস্ট স্থাপনের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি ভোটারকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
এদিন বিজিবি প্রধানের সঙ্গে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্বাচনী এলাকা, বিশেষ করে ঝিনাইগাতীর গুরুত্বপূর্ণ চৌরাস্তা, সড়ক ও প্রধান পথসীমায় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে অতিরিক্ত টহলদারি চালানো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে র্যাপিড রেসপন্স টিম মোতায়েনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বিজিবি প্রধান কর্মীদের সতর্ক করেন, ভোটের আগে ও পরে কোনো প্রকার উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ দেওয়া যাবে না এবং সকল ধরনের অপ্রয়োজনীয় সংঘর্ষ এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানান, শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্বাচনী স্থানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বেইজক্যাম্প পরিদর্শনের মাধ্যমে তিনি সৈনিক ও কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ আরও জোরদার করতে চান। এছাড়া নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়।
এদিকে, জেলা জুড়ে বিজিবি সদস্যরা ইতোমধ্যেই মোতায়েন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবির অধীনে শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহলদারি চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র, প্রধান সড়ক, চৌরাস্তা এবং জনসমাগমের স্থানগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া সম্ভাব্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন।
বিজিবি প্রধান নির্বাচনী বেইজক্যাম্প পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি। তবে তার হেলিকপ্টার অবতরণ এবং বেইজক্যাম্প পরিদর্শনের বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। এলাকার মানুষ এবং নির্বাচন পরিচালনার সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, মহাপরিচালকের নির্দেশনা ও বেইজক্যাম্প পর্যবেক্ষণের ফলে নির্বাচনী দিনগুলোতে শেরপুরে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং ভোটদান কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হবে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে শেরপুরে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে বিজিবি প্রধানের পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে ভোটাররা নিরাপদ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে এবং নির্বাচনী হিংসা বা উত্তেজনা মোকাবিলায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা প্রমাণ হবে।
শেরপুরের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিজিবি প্রধানের এই পরিদর্শন ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি দৃঢ় বার্তা দিচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনী বেইজক্যাম্পে বিভিন্ন প্রস্তুতি, চেকপোস্টের স্থাপন এবং টহলদারি কার্যক্রম কর্মীদের জন্য কার্যকর নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রমাণ করে যে, বিজিবি দেশের প্রতিটি নির্বাচনী অঞ্চলে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্ব প্রদান করছে।