শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, বদলি নীতিমালায় পরিবর্তন: প্রাথমিক শিক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৪ বার
শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, বদলি নীতিমালায় পরিবর্তন: প্রাথমিক শিক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত প্রধান উপদেষ্টার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূরণের নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধান উপদেষ্টা বৈঠকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সার্বিক মান উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানতে চান—শিক্ষার গুণগত মানের দিকে কোন বিদ্যালয়গুলো ভালো করছে এবং কোনগুলো পিছিয়ে আছে। সেই অনুযায়ী মূল্যায়ন করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় জানান, প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিশাল বাজেট বরাদ্দ হলেও কাঙ্ক্ষিত মানোন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩২ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, যা শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, “যেসব বিদ্যালয় ভালো করছে, সেখানে প্রধান শিক্ষকের দক্ষতা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে তার পারস্পরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই বিষয়টি আমাদের নতুনভাবে ভাবতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা নতুন নিয়োগের পাশাপাশি পদায়নের ক্ষেত্রেও একটি স্পষ্ট ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, “প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কয়েকটি শ্রেণি নির্ধারণ করতে হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন, অভিজ্ঞ এবং দক্ষ—তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি তরুণ ও উদ্যমীদেরও নেতৃত্বের সুযোগ দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।”

নিয়োগ কার্যক্রমে দ্রুততা আনতে তিনি সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেন এবং জরুরি ভিত্তিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “একজন শিক্ষক এক উপজেলায় নিয়োগ পেয়ে বারবার শহরের কাছাকাছি বদলি হওয়ার চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির এবং অনিয়ম rampant হয়ে উঠেছে। এসব রোধে একটি কঠোর ও স্বচ্ছ নীতিমালা জরুরি।”

নারীবান্ধব অবকাঠামোর বিষয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কমিটিতে নারী স্থপতির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ছাত্রীবান্ধব হয়। মেয়েদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ডিজাইন করতে হবে শ্রেণিকক্ষ ও টয়লেটসহ অন্যান্য অবকাঠামো।”

প্রধান উপদেষ্টা স্কুল পর্যায়ে ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ইন্টারনেট সংযোগ ও মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছেন। তার মতে, “একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষার সঙ্গে তাল মেলাতে ডিজিটাল অবকাঠামো অপরিহার্য।”

প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে তিনি আরও বলেন, “এই স্তরের দুর্বলতা মানে দেশের ভবিষ্যতের দুর্বলতা। তাই সময় নষ্ট না করে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা যদি শিশুদের ঠিকভাবে গড়তে পারি, তাহলে তারাই আগামীর নেতৃত্ব দেবে।”

এই বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা ফিরে পেতে পারে এর মূল উদ্দেশ্য—শিক্ষা হবে মানসম্মত, সমতা ও সুযোগে ভরপুর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত