মোংলায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭০ বার

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান। স্থানীয় পর্যায়ের এই দলবদল শুধু একটি সাংগঠনিক ঘটনা নয়, বরং নির্বাচনী রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বুধবার বিকেলে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা বাজারে অনুষ্ঠিত বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী জনসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন জামায়াতের এই নেতাকর্মীরা। বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ফুল দিয়ে তাদের বরণ করে নেন এবং দলে স্বাগত জানান। জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের করতালিতে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. খলিল শেখ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল শেখের নেতৃত্বে ৩ নম্বর ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ৩০ জন নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতাকর্মীরা এবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন পথচলার ঘোষণা দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। যারা অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা দলকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তিনি বলেন, আপনারা একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে ছিলেন, রাজনীতির বাস্তব অভিজ্ঞতা আপনাদের আছে। বিএনপিতে আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ দলকে আরও বেগবান করবে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে শক্তিশালী করবে।

এই দলবদলের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু বলা না হলেও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় রাজনীতিতে চলমান পরিবর্তন, নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই অনেকেই নতুন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। জামায়াত থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের অনেকে মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির প্ল্যাটফর্ম থেকেই তারা জনগণের স্বার্থে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

জনসভায় উপস্থিত সুন্দরবন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি খানজাহান সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক এবং বাগেরহাট জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল হালিম খোকন। বক্তারা সবাই দলীয় ঐক্য ও তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

বক্তারা বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতাকর্মীদের যুক্ত হওয়া বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও বিস্তৃত করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোংলা-রামপাল এলাকায় এই যোগদান নির্বাচনী হিসাব-নিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জামায়াতের এই নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিকভাবে পরিচিত মুখ। তাদের সঙ্গে থাকা কর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকলে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যেসব ওয়ার্ডে তারা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন, সেখানে বিএনপির অবস্থান আরও দৃঢ় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে এই দলবদল জাতীয় রাজনীতির একটি বৃহত্তর প্রবণতার দিকেও ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন অনেকে। বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোতে ভাঙন ও নতুন জোটের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মাঠকে আরও গতিশীল করে তুলছে। মোংলার ঘটনাটিও সেই ধারারই একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলছেন, দলে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা কাজে লাগানো হবে। তৃণমূল পর্যায়ে জনসংযোগ, প্রচার ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা হবে বলে জানান তারা। এতে করে নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, জামায়াতের স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে এই যোগদান কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। দলটির সাংগঠনিক শক্তিতে কিছুটা হলেও প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে, মোংলায় জামায়াতের ৩০ নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই যোগদান শুধু একটি দলীয় সংবাদ নয়, বরং ভোটের মাঠে শক্তির ভারসাম্য ও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই এমন ঘটনাগুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত