৫৭ হাজার ইয়াবাসহ ঢাকায়-গাজীপুরে ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৫ বার
৫৭ হাজার ইয়াবাসহ ঢাকায়-গাজীপুরে ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী গাজীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ধারাবাহিক ও গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে ৫৭ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ চারজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহন ও সরবরাহে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি ঢাকার মাদক সরবরাহ চক্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বড় ধরনের আঘাত।

ডিএনসি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর উত্তর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে গত মঙ্গলবার ও বুধবার রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী, উত্তরা এবং গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একাধিক ধাপে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন উত্তরা সার্কেলের পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের নজরদারির ভিত্তিতে পরিকল্পিত এই অভিযানে একের পর এক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানের প্রথম ধাপ শুরু হয় মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকায়। সেখানে সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালায় ডিএনসির দল। তল্লাশির সময় গাড়িটির ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ছয় হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িচালক মো. রাজু মোল্লাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার আচরণ ও বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তদন্ত আরও বিস্তৃত করা হয়।

রাজু মোল্লার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান দ্রুতই পরবর্তী ধাপে গড়ায়। একই রাতে উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী মো. সুমন মিয়াকে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, এই দুইজন মূলত ঢাকার ভেতরে ইয়াবা পরিবহন ও সরবরাহের কাজ করতেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করলে অভিযানের পরিধি বাড়ানো হয়।

পরবর্তী ধাপে রাজু মোল্লার স্ত্রী সানজিদা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে তিনিও দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক কারবারে জড়িত ছিলেন এবং ইয়াবা সংরক্ষণ ও লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। একই সঙ্গে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় আলাদা একটি অভিযানে ৪৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ জোৎস্না আকতার নামে আরেক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মোট উদ্ধার হওয়া ইয়াবার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৭ হাজার ৫০০ পিসে।

ডিএনসি কর্মকর্তারা জানান, এই পুরো অভিযান বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। একাধিক স্থানে একযোগে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, যাতে কোনোভাবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে না পারে। অভিযানে জব্দ করা প্রাইভেটকারটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিদর্শক দেওয়ান মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার চারজনই দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালান সংগ্রহ করে ঢাকায় এনে বিভিন্ন এলাকায় খুচরা মাদক কারবারিদের কাছে সরবরাহ করত। তাদের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তের মাধ্যমে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, টেকনাফ-কক্সবাজার রুট ব্যবহার করে রাজধানীতে ইয়াবা সরবরাহের যে নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, এই অভিযান সেই নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভেঙে দিয়েছে। তবে তারা এটাও স্বীকার করছেন যে, মাদক চোরাচালানকারীরা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল ও পথ ব্যবহার করছে, ফলে এই লড়াই দীর্ঘমেয়াদি এবং কঠিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়াবা এখন বাংলাদেশের অন্যতম ভয়াবহ সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তরুণ সমাজকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে এই মাদক। শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, পরিবার ও সমাজের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব মারাত্মক। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক নজরদারির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডিএনসি জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং বড় চালানের পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান চলবে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রাজধানী পর্যন্ত মাদক পরিবহনের রুটগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও মাদকবিরোধী তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে মাদক নির্মূলের জন্য শুধু আইন প্রয়োগই নয়, সামাজিক প্রতিরোধ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীসহ সারাদেশে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে এই সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত