রামগঞ্জে ধানের শীষের প্রার্থী: উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৫ বার
রামগঞ্জ ধানের শীষ প্রার্থী নির্বাচনী

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিম রবিবার ভাটারা ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচনি উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে যদি আপনারা ভোট দেন এবং আমি এমপি হতে পারি, তাহলে রামগঞ্জে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেব। আমি রামগঞ্জ থেকে কোনো কিছু নিতে আসিনি, বরং আমি রামগঞ্জকে দিতে এসেছি। আমার সব সময়ের মূল লক্ষ্য হবে কীভাবে রামগঞ্জের উন্নয়ন করা যায়।”

শাহাদাত হোসেন সেলিম তার বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী শাপলা কলির প্রার্থী মাহবুব আলমকে লক্ষ্য করে বলেন, “কিছুদিন আগে একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করা শুরু করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তাদের মার্কা বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। এখন যে মার্কার প্রার্থী তারা সমর্থন করছে, তা দেখতে অনেকের কাছে ভয়ঙ্কর মনে হয়।” তিনি আরও বলেন, “মাহবুব আলম জুলাই আন্দোলনের সময় দেশে ছিলেন না, কিন্তু এখন নিজেকে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করছেন। গত দেড় বছরে তিনি অবৈধভাবে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, এবং জনগণ তার অর্থের উৎস জানতে চায়।”

শাহাদাত হোসেন সেলিমের এই নির্বাচনি সভায় ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হান্নান লাভলু সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া সঞ্চালনা করেন। এছাড়া রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হক মজু, সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি আব্দুর রহিম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহাবুদ্দিন তুর্কি, যুক্তরাজ্য বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মো. আবু নাসের, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক শাকিল এবং ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নুরনবী মুক্তা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সবাই ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দলমত-নির্বিশেষে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে রামগঞ্জের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করবেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তার নির্বাচনী প্রচারণা শুধু রাজনৈতিক অর্জনের জন্য নয়, বরং রামগঞ্জবাসীর জীবনমান উন্নত করার জন্য। তিনি গ্রামে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সম্প্রসারণ এবং যুব সমাজকে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পানীয় জল, বিদ্যুৎ, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

শাহাদাত হোসেন সেলিমের নির্বাচনী বক্তব্যে প্রাধান্য পায় গ্রামীণ জনগণের কল্যাণ ও দারিদ্র্য হ্রাসের লক্ষ্য। তিনি বলেন, উন্নয়নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে জনগণের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ ও পরামর্শ অপরিহার্য। তাই তিনি নিজের সময় ও শ্রম উৎসর্গ করবেন, যাতে রামগঞ্জের প্রতিটি মানুষ এই উন্নয়নের সুফল পায়।

ভাটারা ইউনিয়নের নির্বাচনি সভায় উপস্থিত ভোটাররা এই পরিকল্পনামূলক প্রচারণা ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাকে সাদরে গ্রহণ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভোটারদের আস্থা এবং সমর্থনের মাধ্যমে রামগঞ্জে নতুন যুগের উন্নয়ন সূচনা হবে। বক্তারা বলেন, ভোটাররা নিজেরা বুঝবেন কোন প্রার্থী রামগঞ্জের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য কাজ করতে সক্ষম।

শাহাদাত হোসেন সেলিমের নির্বাচনী প্রচারণা রামগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ডে সক্রিয়ভাবে চলছে। তিনি বলেছেন, উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেওয়ার জন্য রামগঞ্জের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চান। তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার করেছেন যে, প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে গ্রামের জনগণের সমস্যা শুনবেন, সমাধান করবেন এবং জনগণের কল্যাণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।

এদিকে, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনকে কেন্দ্র করে শাহাদাত হোসেন সেলিমের প্রচারণা এলাকায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করেছে। নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী অন্য দল ও প্রার্থীরা তাদের অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন সভা, উঠান বৈঠক এবং গণসংযোগে জোর দিচ্ছেন।

রামগঞ্জের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, উন্নয়ন ও নাগরিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য তাদের সচেতন ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আশা করছেন, যে প্রার্থী সত্যিই রামগঞ্জের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণকে প্রধান অগ্রাধিকার দেবে, তিনি ভোটে বিজয়ী হবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাহাদাত হোসেন সেলিমের নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল মূলত গ্রামীণ জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং উন্নয়নমুখী প্রতিশ্রুতির উপর নির্ভরশীল। এটি রামগঞ্জের নির্বাচনী মাঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এনসিপি প্রার্থী মাহবুব আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার ফলে ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষ ও শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে। তবে শাহাদাত হোসেন সেলিমের কেন্দ্রীয় বক্তব্যের মূল বিষয় রামগঞ্জের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ। তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার করেছেন যে, তাঁর নির্বাচনী বিজয় রামগঞ্জবাসীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত