প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাপানে রোববার অনুষ্ঠিতব্য আকস্মিক নির্বাচনে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) বড় ধরনের জয় পেতে পারে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কয়েক মাসে তাকাইচির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপে দেখা যাচ্ছে এলডিপি ও তাদের জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি) ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টির বেশি আসন পেতে পারে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করবে।
৬৪ বছর বয়সী সানায়ে তাকাইচি গত অক্টোবরে জাপানের পাঁচ বছরে পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার অদ্ভুত ব্যাকগ্রাউন্ডও নির্বাচনী প্রচারণায় আগ্রহ তৈরি করেছে; তিনি যুবক বয়সে হেভি মেটাল ব্যান্ডে ড্রামার ছিলেন এবং মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত হিসেবে পরিচিত। তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি ব্যাপক আলোচিত।
নির্বাচনের এই মুহূর্তে প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (সিডিপি) এবং কোমেইতো মিলে নতুন করে গঠন করা সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স তাদের বর্তমান ১৬৭টি আসনের প্রায় অর্ধেক হারাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নির্বাচনের ফলাফলে এলডিপির সম্ভাব্য জয় জাপানের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে নতুন করে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে আঞ্চলিক কূটনীতিতে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তাকাইচি নিয়মিত ইয়াসুকুনি মন্দিরে যান, যা চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত। তিনি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি চীন তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে, জাপান সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। কূটনীতিবিদরা মনে করছেন, এ ধরনের অবস্থান অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে।
অর্থনীতির দিক থেকেও কিছু উদ্বেগ রয়েছে। জাপানের সরকারের ঘোষিত ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজে বন্ডের সুদহার বেড়েছে এবং ইয়েনের মান ওঠানামা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে জাপানের ঋণের অনুপাত মোট দেশজ উৎপাদনের তুলনায় ইতোমধ্যেই বড় এবং চলতি অর্থবছরে ২৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও অর্থনীতিবিদরা আশ্বস্ত করছেন, তাকাইচি ‘অর্থনৈতিকভাবে বেপরোয়া’ হবেন না এবং সরকারের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ বন্ডবাজারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাকাইচির নেতৃত্বে এলডিপি বিজয় পেলে জাপানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। এটি জাপানি অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা এলডিপিকে দেশীয় নীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতি নির্ধারণে শক্ত অবস্থান দেবে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পরিবেশ ও জনমত জরিপ অনুযায়ী, তাকাইচির জনপ্রিয়তা প্রধানত তার শক্তিশালী নেতৃত্ব, আধুনিক নীতি প্রণয়ন এবং তরুণ ভোটারদের প্রতি আকর্ষণের কারণে বেড়েছে। বিশেষ করে তার প্রগতিশীল ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সামাজিক মাধ্যমের উপস্থিতি তাকে প্রচারণায় সমর্থন জোগাচ্ছে।
অর্থনীতির বিষয়ে তাকাইচি যে নীতি গ্রহণ করবেন তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রণোদনা প্যাকেজ এবং বিনিয়োগ প্রণোদনার মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানের অবস্থান শক্তিশালী করতে তার নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, নির্বাচনের ফলাফলে এলডিপি বিজয় পেলে জাপানের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হবে, যা প্রধানমন্ত্রীকে নতুন আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক স্বাধীনতা দেবে। এটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে।