ইরান উন্মোচন করল ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৩ বার
ইরান উন্মোচন করল ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি

প্রকাশ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে ইরান নতুন এক ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) এই ঘাঁটিটি উন্মোচন করে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে চীনের সিজিটিএন এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ঘাঁটিটি পরিদর্শন করেন ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আবদোলরহিম মৌসাভি এবং আইআরজিসির অ্যারোস্পেস শাখার কমান্ডার সাইয়েদ মাজিদ মৌসাভি। পরিদর্শনের সময় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর সক্ষমতা ও প্রস্তুতির অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। এছাড়া ঘাঁটির অগ্রগতি ও কৌশলগত প্রস্তুতির তথ্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডারদের জানানো হয়।

ঘাঁটিতে বক্তব্যকালে মৌসাভি বলেন, ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নতি করে তার প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, “আমরা শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত। আমাদের সামরিক নীতি প্রতিরক্ষামূলক থেকে আক্রমণাত্মক অবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। এতে দ্রুত ও বৃহৎ পরিসরের অভিযান, অসম যুদ্ধকৌশল এবং বিধ্বংসী সামরিক কৌশলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।”

গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষের পর ইরান তার সামরিক নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং আঞ্চলিক আধিপত্য নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ঘাঁটির অবস্থান এবং আকার জননিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং নজরদারির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

ইরানের সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো ভুল পদক্ষেপ আঞ্চলিক সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে। গত রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে মৌসাভি সতর্ক করে বলেন, সামান্যতম ভুল ইরানকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেবে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। তিনি জানান, “যদি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, কোনো আমেরিকান নিরাপদ থাকবে না এবং এই অঞ্চলের আগুন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরও গ্রাস করবে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ ঘাঁটির লক্ষ্য কেবল ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ নয়, বরং সেগুলোর দ্রুত মোতায়েন, সঠিক লক্ষ্যনির্ধারণ এবং আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি। এটি ইরানের সামরিক শক্তির এক নতুন মাত্রা হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘাঁটি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ও অস্ত্র সীমাবদ্ধতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর নজরদারিতে ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা বলেন, ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো রাডার ও স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সহজে লুকানো যায়, যা প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর জন্য অজানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইরানের সামরিক কৌশল বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা নীতির সঙ্গে এই ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি যুক্ত হওয়ায় ইরানের সামরিক স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য শক্তিধর দেশের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের স্থাপনা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনা জটিল করে তুলতে পারে।

ইরানের নতুন এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্বের যেকোনো সংঘাতের ইতিহাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এই ঘাঁটির অস্তিত্ব ভবিষ্যতের কৌশলগত সমঝোতা ও সংঘাত পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দেন, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির উদ্বোধন শুধুমাত্র সামরিক দিক নয়, রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাবও সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো এই নতুন ঘাঁটির প্রভাব মূল্যায়ন করছে এবং কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে সতর্ক রয়েছে।

ইরানের সামরিক নেতৃত্বের বক্তব্য ও নতুন ঘাঁটির কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে, বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর কূটনৈতিক কৌশল আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি-সুরক্ষার বিষয়টি এখন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

এই খবরে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করছে যে, ইরান শুধু প্রতিরক্ষা নয়, আক্রমণাত্মক সামরিক প্রস্তুতিতেও লক্ষ্য রাখছে। ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি এর অদৃশ্যতা, নিরাপত্তা ও মোতায়েনযোগ্যতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুনভাবে হিসাব রাখতে বাধ্য করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শক্তি সামঞ্জস্য এবং কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত