এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে স্টারমারের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৩ বার
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে স্টারমারের নেতৃত্ব প্রশ্নবিদ্ধ

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পদ ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপে। এই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কিয়ার স্টারমার, যিনি পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় সঙ্কটের মুখে পড়েছেন। ম্যান্ডেলসনের এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার তথ্য প্রকাশিত হওয়ায় দলীয় এমপিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ম্যান্ডেলসন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন গত বছর পর্যন্ত। তবে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হলে তিনি পদত্যাগ করেছেন। গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশ করে, যেখানে ম্যান্ডেলসনের ছবি ও কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। এই নথি অনুযায়ী, ম্যান্ডেলসন যুক্তরাজ্যের বাজার ব্যবস্থার সংবেদনশীল তথ্য এপস্টেইনের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ পুলিশ ইতিমধ্যেই বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমালোচনার চাপের মুখে ম্যান্ডেলসন সম্প্রতি লেবার পার্টির সদস্য পদও ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এমপিরা বলছেন, ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের কারণে নথি প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে। এ নথি প্রকাশিত হলে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রী পদ টিকে থাকা কঠিন হতে পারে। একটি লেবার এমপি উল্লেখ করেছেন, ম্যান্ডেলসনের নিয়োগের আগে দলের উচ্চপদস্থরা বিষয়টি জানতেন। তবুও তিনি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন, যা ক্রিস পিঞ্চারের কেলেঙ্কারির চেয়েও গুরুতর।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্টারমার স্বীকার করেন যে, ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত করার আগে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পর্কে জানতেন। যদিও ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সূত্র জানায়, স্টারমার কেবল জনসমক্ষে প্রকাশিত তথ্যগুলো সম্পর্কে জানতেন। তবে হাউস অব কমনসের অধিবেশনে তিনি স্বীকার করেন, ম্যান্ডেলসনের এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতা সম্পর্কে ভুলভাবে চালিত হয়েছেন। রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার আগে এবং পরে ম্যান্ডেলসন বারবার মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন।

স্টারমার বলেন, ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়ার জন্য তিনি অনুতপ্ত। তবে তার দপ্তর যুক্তি দেয় যে, প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি প্রতারণায় অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না, কারণ তিনি কেবল উপস্থিত তথ্যই বিবেচনা করেছেন। এছাড়া স্টারমার যুক্তি দেন, ম্যান্ডেলসনের কাজের জন্য তার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক দোষ নেই।

এদিকে ব্রিটিশ আবাসন মন্ত্রী স্টিভ রিড বিবিসির এক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, স্টারমারের প্রধানমন্ত্রীর পদ এখনও নিরাপদ। তিনি বলেন, ম্যান্ডেলসনের প্রতারণা জনসমক্ষে প্রকাশ হওয়ায় স্টারমার দৃঢ়তা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার চেয়ে ম্যান্ডেলসনের প্রতারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এপস্টেইন কেলেঙ্কারির ফলে লেবার পার্টির মধ্যে আস্থা হ্রাস পাচ্ছে, যা স্টারমারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। পার্লামেন্টে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, মিডিয়ায় সমালোচনা এবং এমপিদের অভ্যন্তরীণ চাপ মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে।

যদি নথি ও তদন্তের ফলাফলে আরও তথ্য প্রকাশিত হয়, তা স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তবে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্টারমার দায়িত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেবেন।

এপস্টেইন ফাইলসের এই কেলেঙ্কারিতে ম্যান্ডেলসনের প্রতারণা, লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপে স্টারমারের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর পদে তার টিকে থাকা নিয়ে অব্যাহত উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন এই মুহূর্তে সরব হয়ে উঠেছে, কারণ নির্বাচন ও জনমত প্রভাবিত হতে পারে এই ঘটনাগুলোর মাধ্যমে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত