সূচক উত্থানে চাঙা পুঁজিবাজার, ডিএসইর বাজার মূলধনে বড় যোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫১ বার
সূচক উত্থানে চাঙা পুঁজিবাজার, ডিএসইর বাজার মূলধনে বড় যোগ

প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি সপ্তাহে সূচকের উত্থান ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের পুঁজিবাজারে আবারও কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। সপ্তাহ ব্যবধানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা। যদিও সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণে কিছুটা কমতি দেখা গেছে, তবে সূচকের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধিকে বাজার বিশ্লেষকরা স্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।

পুঁজিবাজারের সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এই মূলধন ছিল ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে নীতি-সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি এবং কিছু শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ফলে সূচকে এই ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে যে অস্থিরতা ও আস্থার সংকট ছিল, তার মধ্যে এমন উত্থান বিনিয়োগকারীদের মানসিকভাবে কিছুটা সাহস জুগিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ডিএসইতে সব কয়টি সূচকের মান বেড়েছে, যা বাজারের সার্বিক শক্ত অবস্থানকে তুলে ধরে। প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৮০ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এই সূচকের উত্থান সাধারণত বাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতির প্রতিফলন হিসেবে ধরা হয়। একই সঙ্গে ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ, যা বড় মূলধনী ও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। অপরদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা এই খাতের শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির প্রমাণ।

তবে সূচকের উত্থানের বিপরীতে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যেখানে এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৮৯৭ কোটি ১২ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ২২৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সূচক বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনো সতর্ক অবস্থানেই রয়েছে, যার ফলে বড় অঙ্কের লেনদেন বাড়েনি।

তবে আশার দিক হলো, প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৬৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৭৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা। অর্থাৎ গড় লেনদেন বেড়েছে ৮৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বা ১৫ দশমিক ৩২ শতাংশ। এটি নির্দেশ করে যে, লেনদেনের দিনসংখ্যা বা বাজারের কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে সাপ্তাহিক মোট লেনদেন কম হলেও প্রতিদিনের বাজার কার্যক্রম কিছুটা বেশি সক্রিয় ছিল।

এই সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২৩১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৪১টির কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে দর বৃদ্ধির সংখ্যা দর পতনের তুলনায় বেশি হওয়ায় সামগ্রিকভাবে বাজারের মনোভাব ইতিবাচক ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংক, ফার্মাসিউটিক্যালস, বিদ্যুৎ ও কিছু ভোক্তা পণ্য খাতের শেয়ারে আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে। পাশাপাশি কিছু ভালো মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়িত থাকায় বিনিয়োগকারীরা সেখানে অবস্থান নিচ্ছেন। যদিও এখনো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি, তবে খুচরা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে।

এদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সপ্তাহজুড়ে সূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং সিএসসিএক্স বেড়েছে ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সপ্তাহ শেষে সিএএসপিআই দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৩১ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১২২ দশমিক ২৬ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং সূচকটি অবস্থান করছে ১ হাজার ১৪৭ দশমিক ০৬ পয়েন্টে। সিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং সিএসআই সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, যা যথাক্রমে ১৩ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৯১ পয়েন্ট ও ৯০৬ দশমিক ২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এসব সূচকের উত্থান চট্টগ্রাম বাজারেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও আস্থার ইঙ্গিত দেয়।

তবে ডিএসইর মতো সিএসইতেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। চলতি সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। এক সপ্তাহে লেনদেন কমেছে ১৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ২৬৯টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৬০টির দর বেড়েছে, ৮৭টির কমেছে এবং ২২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সূচক উত্থান ইতিবাচক হলেও এটি টেকসই করতে হলে নীতি সহায়তা, স্বচ্ছতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও সময়মতো তথ্য প্রকাশ বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তারা আরও বলছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা এবং ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা পুঁজিবাজারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এসব ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়তে পারে। আপাতত সপ্তাহজুড়ে সূচকের ঊর্ধ্বগতি ও বাজার মূলধনের বৃদ্ধি পুঁজিবাজারে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে, যদিও বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ এখনো সতর্ক ও হিসেবি অবস্থানেই রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত