প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে দেশি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। গত বুধবার দিবাগত রাতে সন্দ্বীপের আমানউল্লাহ বেড়িবাঁধ এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন সন্দ্বীপ ও নৌবাহিনীর যৌথ টিম অভিযান চালিয়ে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম, একটি একনলা দেশীয় বন্দুক এবং তাজা কার্তুজসহ দুই কারিগরকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন—অমানউল্লাহ ইউনিয়নের মৃত মাঈন উদ্দিনের ছেলে মো. রাসেদ (৪০) এবং রাহমতপুর ইউনিয়নের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আকবর (৪৩)।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সন্দেহজনক গতিবিধির তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, একনলা বন্দুক ও দুই রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র তৈরির কাজে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে রাসেদ ও আকবরকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সন্দ্বীপ ও সমুদ্র উপকূলের দুর্গম চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কারিগরি ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র উৎপাদনের জন্য পরিচিত। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এসব কারখানা সাধারণত ছোট আকারের হলেও তাতে দেশি বন্দুক এবং অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ধরনের কার্যক্রম কিছুটা কমে এসেছে। তবে দুর্গম চরাঞ্চলে এসব কারিগরি কারখানা এখনও আড়ালেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতি বছর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অস্ত্র ও কারিগরদের আটক করে। এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং অবৈধ অস্ত্র তৈরির কাজের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং জব্দ করা অস্ত্র-সরঞ্জামের যথাযথ তদন্ত চলমান।
স্থানীয়রা বলছেন, এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কার্যক্রম চলে আসছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অসংখ্য ছোটখাটো ওয়ার্কশপের আড়ালে এসব কারখানা পরিচালিত হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত অভিযান অনেকটা স্থায়ী প্রতিরোধ তৈরি করেছে। সূত্র মতে, এই ধরনের অভিযান জনসাধারণের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নৌপথে অবৈধ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, আটককৃত দুই কারিগর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অস্ত্র কারিগান হিসেবে পরিচিত। তারা মূলত স্থানীয় বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দেশি বন্দুক ও কার্তুজ তৈরি করতেন। তবে এই অভিযান প্রমাণ করে যে, অবৈধ অস্ত্র তৈরির কর্মকাণ্ড এখনও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
এই ধরনের অভিযান থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, দেশে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন এবং আইন শৃঙ্খলার অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের অভিযানে সরাসরি অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো ধরনের অস্ত্র কারখানা বা অবৈধ কার্যক্রম ধ্বংস করা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
অভিযানটি এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকে কোস্ট গার্ডের তৎপরতা এবং নিয়মিত অভিযানকে প্রশংসা করছেন। তারা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান অবৈধ অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি হ্রাস করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্র তৈরির জন্য এই ধরনের অভিযান অপরিহার্য।
অভিযান সংক্রান্ত তদন্ত চলছে এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশা করছে, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আরও বেশি করে স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে এবং অবৈধ অস্ত্র উৎপাদনের কার্যক্রম শূন্যে নামিয়ে আনবে।