কড়াইল বস্তিতে বিএনপির ফ্রি ওয়াই-ফাই সার্ভিস শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
কড়াইল বস্তিতে বিএনপির ফ্রি ওয়াই-ফাই সার্ভিস শুরু

প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তিতে ফ্রি ওয়াই-ফাই সার্ভিস চালু করেছে বিএনপি। বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ূন কবির এ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বস্তির বাসিন্দারা সরাসরি ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করতে শুরু করেন এবং স্থানীয় সমাজের উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহিত হন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হুমায়ূন কবির বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে কড়াইল বস্তির হাজারো মানুষ বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এটি শুধু তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করবে না, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেরও সুযোগ তৈরি করবে। আমরা আশা করি, দ্রুতই এই পরিষেবা অন্যান্য এলাকায়ও সম্প্রসারিত হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচিত করতে জনগণকে উৎসাহিত করা হবে। তার নেতৃত্বে কড়াইল বস্তির জীবনমান আরও উন্নত হবে এবং নাগরিকদের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত হবে।”

তিনি নির্বাচকদের উদ্দেশ্যে সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাই। শুধু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নয়, বস্তির বাসিন্দাদের উন্নয়ন এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই দেশের জনগণকে শক্তিশালী করা সম্ভব।” তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, যে নির্বাচনী জয়ের পর কড়াইলসহ আশেপাশের অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার মান উন্নয়ন করা হবে।

বস্তির মানুষও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ বাসিন্দারা বলেছেন, ফ্রি ওয়াই-ফাই তাদের শিক্ষা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে। কম বয়সী ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারবে, যা তাদের শিক্ষাজীবনে বড় সহায়তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় বস্তিবাসী এবং সমাজকর্মীরা মনে করেন, ডিজিটাল সুবিধার সম্প্রসারণ সমাজের মধ্যে তথ্যের সমতা ও যোগাযোগের সুযোগ বৃদ্ধি করবে। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধার অভাবে বস্তির শিক্ষার্থী এবং উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এবার ফ্রি ওয়াই-ফাই সার্ভিসের মাধ্যমে সেই বৈষম্য কিছুটা হ্রাস পাবে।

বিএনপি এই উদ্যোগকে নির্বাচনী প্রচারণার একটি অংশ হিসেবেও তুলে ধরেছে। দল মনে করছে, প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন এবং জীবনের মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি স্থানীয় মানুষদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। হুমায়ূন কবির বলেছেন, “আমরা চাই কড়াইল বস্তির মানুষ তথ্যপ্রবাহে পিছিয়ে না থাকুক। প্রযুক্তি এখন মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, আর এটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের।”

এতে করে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোও প্রযুক্তিকে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করতে শুরু করেছে। সাধারণ নাগরিকের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন এই ধরনের উদ্যোগকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

ফ্রি ওয়াই-ফাই সার্ভিসের উদ্বোধনের মাধ্যমে কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা আরও সচেতন এবং সক্রিয় নাগরিক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারবে। শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক যোগাযোগে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং তথ্য বিনিময় করতে সক্ষম হবে।

অঞ্চলের তরুণরা বলেন, তারা এখন অনলাইনে শেখার, চাকরির তথ্য পাওয়া এবং নিজের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। বয়স্করা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা সহজ হবে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোও এই সুবিধার মাধ্যমে নতুন শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালাতে পারবে।

বিএনপির এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা ও সমাজকল্যাণ কার্যক্রমকে একসাথে সংযুক্ত করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দলও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারবে।

এদিকে নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের আগে এমন উদ্যোগ স্থানীয় মানুষদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী অংশগ্রহণ উৎসাহিত করবে। তবে তারা আরও বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে সকল রাজনৈতিক দলকে এই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

কড়াইল বস্তির ফ্রি ওয়াই-ফাই প্রকল্পটি বাংলাদেশের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণকে সুবিধা প্রদানের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি স্থানীয় জনগণের ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগে নতুন সুযোগ এবং জীবনের মান উন্নয়নের পথ খুলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত