ধর্মীয় সহনশীলতার বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির রাজনীতি: সালাহউদ্দিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
ধর্মীয় সহনশীলতার বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির রাজনীতি: সালাহউদ্দিন

প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ধর্মান্ধতা নয়, বরং ধর্মীয় সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ধর্ম কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভাজন সৃষ্টি নয়, বরং সব নাগরিককে এক পরিচয়ে—বাংলাদেশি হিসেবে—একত্র করাই বিএনপির অঙ্গীকার ও রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতিতে সালাহউদ্দিন আহমদ ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নাগরিক সমতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুজাতিক রাষ্ট্র হলেও এখানে সবার পরিচয় একটাই—আমরা সবাই বাংলাদেশি। সংবিধান অনুযায়ী এই দেশের প্রত্যেক নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদার দাবিদার। রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ধর্ম কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো নাগরিক আলাদা হতে পারে না এবং হওয়ার প্রশ্নও নেই। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাই এই সমতার মূল ভিত্তি।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, একজন নাগরিকের পরিচয় তার ধর্ম দিয়ে নয়, বরং তার নাগরিকত্ব ও সাংবিধানিক অধিকারের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়। আমাদের পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা আছে—আমরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। এই পরিচয়ই আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। বিএনপি শুরু থেকেই এই দর্শন লালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এর ব্যত্যয় ঘটবে না।

ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে যে ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রতিটি নাগরিক যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সব ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট ছিল এবং ভবিষ্যতেও এই দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, মসজিদ, মন্দির, গির্জা কিংবা বৌদ্ধ বিহার—সব উপাসনালয়ই রাষ্ট্রের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধর্মীয় স্থাপনা কিংবা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া রাষ্ট্রের নীতির পরিপন্থী। বিএনপি বিশ্বাস করে, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

অতীতের কিছু সহিংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—কিছু গোষ্ঠী অতীতে ধর্মকে ব্যবহার করে সহিংসতা চালিয়েছে, উপাসনালয়ে হামলা করেছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছে। ১৯৯২ সালের মতো দুঃখজনক ঘটনাগুলোর সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের পরিচয় দেশবাসীর অজানা নয়। এসব শক্তি যদি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার সুযোগ পায়, তবে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা চরমভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়েও কিছু রাজনৈতিক শক্তির আচরণ ও বক্তব্য লক্ষ্য করলে স্পষ্ট বোঝা যায়—তারা ক্ষমতায় এলে কেউই নিরাপদ থাকবে না। ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে তারা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে চায়। বিএনপি এই রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে সহনশীল, শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি ধর্মান্ধতায় নয়, ধর্মীয় সহনশীলতায় বিশ্বাস করে। এই দেশ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার। এখানে কাউকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে নয়, বরং সমান নাগরিক হিসেবে দেখাই বিএনপির রাজনীতি। ধর্মীয় সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই দেশকে এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে—বাংলাদেশ বিভাজনের পথে যাবে নাকি ঐক্যের পথে এগিয়ে যাবে। বিএনপি ঐক্যের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং সেই ঐক্য গড়ে তুলতেই জনগণের সমর্থন চায়।

পথসভায় বক্তৃতা শেষে সালাহউদ্দিন আহমদ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তারা ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বিএনপির অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এদিকে, একই দিন বিকেলে কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে কক্সবাজার-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজলের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদের। সেখানে তিনি দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী অঙ্গীকার নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেতাদের ধারাবাহিক জনসংযোগ ও পথসভায় ধর্মীয় সহনশীলতা, নাগরিক সমতা ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বার্তা ভোটারদের মধ্যে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত