ট্রাম্পের ভিডিওতে ওবামা দম্পতিকে বানর রূপে দেখানোয় তীব্র সমালোচনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৪ বার
ট্রাম্পের ভিডিওতে ওবামা দম্পতিকে বানর রূপে দেখানোয় তীব্র সমালোচনা

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বানরের রূপে দেখানো একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি এই ভিডিওটি নিজের প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেন, যা নির্বাচন-সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রমূলক দাবি এবং কৃত্রিম দৃশ্যের সংমিশ্রণে তৈরি।

প্রায় এক মিনিট দীর্ঘ ভিডিওটির শেষের অংশে প্রায় এক সেকেন্ডের জন্য ওবামা দম্পতিকে বানরের রূপে প্রদর্শন করা হয়েছে। ভিডিওতে তাদের শরীর বানরের মতো দেখানো হয়েছে এবং মুখাবয়বের সঙ্গে ওবামা দম্পতির চেহারা সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভিডিওতে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে যে ডোমিনিয়ন ভোটিং সিস্টেমস ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে বিজয় ‘ছিনিয়ে নিতে’ সহায়তা করেছিল। ভিডিওটি প্রকাশের পর মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে হাজারেরও বেশি লাইক পেয়েছে।

এই পোস্টের পর মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, যিনি ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার সম্ভাব্য দাবিদার এবং ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক, এই ভিডিওর তীব্র নিন্দা জানান। নিউসমের কার্যালয় এক্সে লিখেছে, “প্রেসিডেন্টের এই আচরণ জঘন্য এবং প্রত্যেক রিপাবলিকানকে এখনই এর নিন্দা জানাতে হবে।”

বারাক ওবামার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডসও ভিডিওটির দৃশ্যপটের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, “ভবিষ্যৎ আমেরিকানরা ওবামা দম্পতিকে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে গ্রহণ করবে, আর ট্রাম্পকে আমাদের ইতিহাসের একটি কলঙ্ক হিসেবে অধ্যয়ন করবে। এই বাস্তবতা যেন ট্রাম্প ও তার বর্ণবাদী সমর্থকদের তাড়িয়ে বেড়ায়।”

হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর থেকেই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমগুলোতে অতিরঞ্জিত এবং এআই-নির্মিত ভিডিও ব্যবহারের মাত্রা বাড়িয়েছেন। এসব ভিডিওতে প্রায়ই তিনি নিজেকে মহিমান্বিত করে দেখান এবং সমালোচকদের বিদ্রূপ করেন। গত বছরও তিনি একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–নির্মিত ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে ওভাল অফিসে বারাক ওবামাকে গ্রেপ্তার এবং পরে কমলা রঙের কারাবন্দি পোশাকে কারাগারের ভেতরে দেখানো হয়।

এরপর ট্রাম্প আরেকটি এআই ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যালঘু দলের নেতা হাকিম জেফ্রিসকে, যিনি কৃষ্ণাঙ্গ, ভুয়া গোঁফ এবং সোমব্রেরো পরিহিত অবস্থায় দেখানো হয়। জেফ্রিস এই ভিডিওকে প্রকাশ্যে বর্ণবাদী বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, এটি মার্কিন রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি করার কৌশল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সমালোচকদের প্রতি বিদ্রূপ নয়, বরং রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিভাজনকে উস্কে দেওয়ার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার ছড়ানোর সম্ভাবনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় এ ধরনের কৃত্রিম ও প্রলুব্ধিমূলক ভিডিও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও পোস্টের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কের ফলে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনার ঢেউ উঠেছে। অনেকের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য এই ধরনের ভিডিও প্রচার ক্ষতিকর। বিশেষ করে যেসব ভিডিও বর্ণবাদী চরিত্র ধারণ করে, তা জাতিগত ও সামাজিক সংহতিকে হুমকির মুখে ফেলে।

মিডিয়ার বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এ ধরনের কৃত্রিম ভিডিও ব্যবহার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখা যায়। এটি সমালোচকদের নিন্দা বা বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি করার পাশাপাশি সমর্থক বেসকে সক্রিয় রাখার উপায় হিসেবেও কাজ করে। তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে মার্কিন রাজনীতিতে ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠার আশঙ্কা রয়েছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক নেতারা পুনরায় সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সত্যতা, নৈতিকতা এবং সম্মানজনক আচরণের প্রয়োজনীয়তা জনগণের কাছে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ভিডিও শুধুমাত্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে না, বরং নির্বাচনী পরিবেশকেও উত্তেজনাপূর্ণ ও বিভাজনমূলক করে তুলেছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের এ ধরনের কৃত্রিম ভিডিও ও বিতর্কিত পোস্টের কারণে নির্বাচনী প্রচারণার সময় জনগণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক রয়েছে। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক নেতাদের সামাজিক দায়িত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা আজকের সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত