ইসলামাবাদ মসজিদ হামলায় শোক, পুতিন সহায়তা প্রস্তাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
ইসলামাবাদ মসজিদ হামলায় শোক, পুতিন সহায়তা প্রস্তাব

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শিয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালায় আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। এটি পাকিস্তানের রাজধানীতে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশটির শেহজাদ টাউন এলাকায় অবস্থিত ইমাম বারগাহ খাদিজা-তুল-কুবরা মসজিদে এই হামলা ঘটে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং এই বর্বর ও অমানবিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। পুতিন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে পাঠানো এক শোকবার্তায় উল্লেখ করেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন মানুষ হত্যাকে তিনি সন্ত্রাসবাদের অগ্রহণযোগ্য দিক হিসেবে দেখেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, মস্কো পাকিস্তানের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদার করতে প্রস্তুত। পুতিন আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং নিহতদের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তবে ভারতের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ থেকে যে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে তা ভিত্তিহীন ও অর্থহীন বলে তারা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি পূর্বে দাবি করেছিলেন, হামলাটি ভারত পরিকল্পিত। তবে ভারতের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, পাকিস্তানকে তার সামাজিক ও অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে মনোনিবেশ করা উচিত, অন্যকে দোষারোপ করে বিভ্রান্ত হওয়া নয়।

হামলার সময় মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিরা জানিয়েছেন, জুমার নামাজ চলাকালীন সময়ে খুব শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। হামলাকারী মসজিদে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তা স্বেচ্ছাসেবকরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হলেও বহু মানুষ আহত হয়।

ইসলামাবাদে আফগানিস্তান দূতাবাসও গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং হামলাটিকে বেসামরিক নাগরিক ও উপাসনালয়গুলোর ওপর অযৌক্তিক সহিংসতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ইরানও হামলাটির নিন্দা জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে। তেহরান প্রশাসন সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি এ. বেকার বলেছেন, বেসামরিক নাগরিক এবং ধর্মীয় স্থানগুলোতে এই ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য। তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং নিহতদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক এক বিবৃতিতে বলেন, সমস্ত উপাসনালয়কে সন্ত্রাস ও সহিংসতা থেকে নিরাপদ রাখা উচিত। কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বচওয়ে বলেন, হামলায় হতবাক ও গভীরভাবে দুঃখিত।

পাকিস্তান একটি বহুসংখ্যক মুসলিম দেশ হলেও সুন্নি সম্প্রদায়ের তুলনায় শিয়া সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। অতীতে তারা বিভিন্নবার কট্টরপন্থী গ্রুপ যেমন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর লক্ষ্য হয়ে হামলার শিকার হয়েছে। ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক এই হামলা শিয়াদের ওপর চালানো অন্যতম প্রাণঘাতী তৎপরতা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একযোগে এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন এবং পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণে সমর্থন জানিয়েছেন। রাশিয়া সহ অন্যান্য দেশগুলো সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সমবেদনা এবং সহায়তা পাকিস্তানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এই হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছে যে, সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করা অপরিহার্য। ধর্মীয় স্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য নৈতিক ও মানবিক বাধ্যবাধকতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত