প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
হবিগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন ও নির্বাচনী প্রত্যাশা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্মিত নিউ ফিল্ড মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ভোটারদের দেখলেই অনেকে তাকে ভাই বলে সম্বোধন করেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ভাইয়ানা মর্যাদা তো দূরের কথা, সাধারণ ভদ্রতা বা সম্মানও দেন না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জীবন দিয়ে যারা এই দেশ আমাদের উপহার দিয়ে গেছেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা এখনও পূর্ণ হয়নি। ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে, তবু সঠিক সমবায় ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়নি। নির্বাচনের আগে অনেক প্রার্থী বসন্তের সুবাতাসের মতো নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসে, কিন্তু ভোট শেষ হতেই তারা অনুপস্থিত হয়ে যায়। জামায়াত এমন নয়। আমরা চরম দুঃসময়েও দেশত্যাগ করিনি, জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে আমাদের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা কখনও জনগণের তহবিল ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবে না। সকল জনপ্রতিনিধি এবং তাদের পরিবার বছরে দু’বার সম্পদের বিবরণ জাতির সামনে প্রকাশ করবেন। এটি হবে স্বচ্ছতার প্রতীক এবং জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার প্রকাশ।’
জনসভায় ভোটারদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদি নির্বাচনী পরিবেশে কেউ বিঘ্ন ঘটাতে আসে, তাদের আগে উচিত শিক্ষা দিতে হবে, তারপর পুলিশকে জানাতে হবে। একইসঙ্গে যাদের কাজ আইন রক্ষা করা, তারা যদি আইন হাতে তুলে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তাদের ফল ইতিমধ্যে খারাপ হয়েছে, সামনেও হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত সরকার গঠন করলে হবিগঞ্জের মৎস্য, বনজ ও খনিজ সম্পদের যথাযথ রক্ষা এবং সুষম ব্যবহারের মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়নে সহায়তা করা হবে। একইসঙ্গে যারা হাদি, আবু সাইদ ও আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িত তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। জনগণ যেন আইন ও ন্যায়ের প্রতি আস্থা রাখে, এজন্য আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
ডা. শফিকুর রহমান প্রশাসনের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশের প্রশাসন কোন রাজনৈতিক দলের নয়, ১৮ কোটি মানুষের পাশে থাকার দায়িত্বপালন করবে। নির্বাচনের সময় এটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।’
তিনি জনগণকে মনে করিয়ে দেন যে, রাজনীতি শুধু ভোটের দিন উপস্থিত থাকা নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে কাজ করা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পেছনে লুকিয়ে থাকা দায়িত্ববোধ ও ন্যায়পরায়ণতা জনগণকে বাস্তবিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘জনগণের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক একটি পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে। নির্বাচন শুধু পলিসি বা ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম। আমরা এই বিশ্বাসের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
হবিগঞ্জের নিউ ফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় হাজারো লোক উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সমাবেশস্থলে এসে অংশ নেন। উপস্থিত ভোটাররা বলছিলেন, শফিকুর রহমানের বক্তব্যে তারা দেশের জন্য রাজনৈতিক সততার ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান শুনেছেন। জনসভা শেষে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিয়েছেন, জামায়াতের এই বক্তব্য মূলত তাদের নির্বাচনী উদ্দেশ্য ও দীর্ঘমেয়াদী নীতি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার প্রচেষ্টা।
শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য শুধু নির্বাচনী সময়কালের জন্য নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি একটি গভীর বার্তা বহন করে। রাজনৈতিক নেতাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার, স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুত্ব এই জনসভায় পুনর্ব্যক্ত হয়।
সামগ্রিকভাবে এই জনসভা এবং ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য ভোটারদের মনে দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক নৈতিকতার মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে এবং পরে রাজনৈতিক দলের আচরণ নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও এই ধরনের জনসভার লক্ষ্য।