উচ্চশিক্ষার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: বিএসবির চেয়ারম্যান খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে সিআইডির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৩ বার
উচ্চশিক্ষার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: বিএসবির চেয়ারম্যান খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে সিআইডির ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের আলোচিত শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের চেয়ারম্যান খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও প্রতারণার মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক খালিদ সাইফুল্লাহ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি খায়রুল বাশারকে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানির দিন ঠিক করে আদালত বিষয়টি বিবেচনা করছে।

সিআইডির তদন্ত অনুসারে, বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠানোর নামে চটকদার বিজ্ঞাপন, ক্যাম্পেইন ও কথিত স্কলারশিপের প্রলোভন দেখিয়ে একটি সংগঠিত প্রতারণার জাল বিস্তার করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোতে পড়াশোনার নিশ্চয়তা দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের যথাসময়ে পাঠানো হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেওয়া হয়নি।

মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, খায়রুল বাশার, তার স্ত্রী খন্দকার সেলিমা রওশন এবং ছেলে আরশ ইবনে বাশার মিলে মোট ১৪১ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০ টাকা আত্মসাৎ করেন। প্রতিটি কেসেই শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিলেও, ভিসা কিংবা ভর্তি নিশ্চিতকরণ ছাড়াই বারবার হয়রানির শিকার হন।

প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর বহু ভুক্তভোগী প্রতিকার চাইতে গিয়ে ব্যর্থ হন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং গণমাধ্যমেও অভিযোগ উঠে আসে। পরে ২০২৫ সালের ৪ মে সিআইডির উপপরিদর্শক রুহুল আমিন গুলশান থানায় একটি অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের মামলাটি দায়ের করেন।

তদন্তে উঠে আসে, প্রতিষ্ঠানটি শুধু দেশে প্রতারণা করেই ক্ষান্ত হয়নি, আদায়কৃত অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচারও করা হয়েছে। কিছু অর্থ বৈদেশিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচার ও কর ফাঁকিরও অভিযোগ রয়েছে।

সিআইডি সূত্র বলছে, আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রতারণা চক্রের গভীরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে চক্রটির সহযোগী ও আর্থিক যোগানদাতাদের নাম প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক একসময় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষা পরামর্শক সংস্থা হিসেবে পরিচিত ছিল। বহু শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একের পর এক প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই ঘটনার পরে সিআইডির রিমান্ড আবেদন নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশজুড়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা আশা করছেন, দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে এবং যারা অর্থ হারিয়েছেন, তারা অন্তত কিছুটা হলেও প্রতিকার পাবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলাটি দেশের শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা এবং আইনি কাঠামোর দুর্বলতা পুনরায় সামনে এনে দিয়েছে। যথাযথ মনিটরিং না থাকায় এমন প্রতারণা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছিল, যা নিয়ন্ত্রণের এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত