ঢাকা-১৫ আসনে জরিপে এগিয়ে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫ বার

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা-১৫ আসনে ভোটের মাঠে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সোচ্চারের সাম্প্রতিক জরিপ। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে এই আসনে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, যিনি সম্ভাব্যভাবে ৩০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য সামনে আসার পর রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা, বিশ্লেষণ এবং কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

শনিবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচনি জরিপ: প্রধান চারটি রাজনৈতিক দলের প্রধানদের আসন’ শীর্ষক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সোচ্চারের প্রেসিডেন্ট ড. শিব্বির আহমদ। তিনি জানান, এই জরিপের উদ্দেশ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসনগুলোতে ভোটারদের বর্তমান মনোভাব বোঝা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে একটি প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জরিপটি সম্পূর্ণ পেশাদার পদ্ধতিতে, নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছে।

জরিপে দেখা যায়, ঢাকা-১৫ আসনের মোট ভোটারের মধ্যে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার ডা. শফিকুর রহমানকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৩০ শতাংশ ভোটার। উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। জরিপ অনুযায়ী, ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তারা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এছাড়া ১২ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে কোনো মত প্রকাশ করতে চাননি। অন্যদিকে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন তারা ভোট প্রদান করবেন না।

এই জরিপটি দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নির্বাচিত ৫১৪ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০৪ জন পুরুষ এবং ২১০ জন নারী ভোটার অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সামাজিক অবস্থানের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। সোচ্চারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বৈচিত্র্য জরিপের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-১৫ আসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এই আসনে সাধারণত বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র লড়াই দেখা যায়। সাম্প্রতিক এই জরিপে জামায়াত আমিরের এগিয়ে থাকা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন এটি ভোটারদের মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা, হতাশা এবং বিকল্প খোঁজার প্রবণতা এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি একজন চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। সামাজিক কর্মকাণ্ড, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তার একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনও স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। জরিপে তার ৩০ শতাংশ ভোট পাওয়ার পূর্বাভাস এই আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থানের কথাও তুলে ধরে।

তবে জরিপে বড় একটি অংশের ভোটার সিদ্ধান্তহীন বা মত প্রকাশে অনিচ্ছুক থাকায় শেষ মুহূর্তে ফলাফল ভিন্ন হতে পারে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের সিদ্ধান্ত অনেক সময় শেষ দিকেই চূড়ান্ত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নির্বাচনি প্রচারণা, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি এবং জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সোচ্চারের প্রেসিডেন্ট ড. শিব্বির আহমদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই জরিপ কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য নয়। বরং এটি ভোটারদের বর্তমান মানসিকতা ও প্রবণতা বোঝার একটি গবেষণামূলক উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, জরিপের ফলাফলকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, তবে এটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জরিপের ফলাফল প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ জরিপের পদ্ধতি ও নমুনা আকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। দলীয় নেতারা বলছেন, মাঠের বাস্তবতা, ভোটারদের সরাসরি সংযোগ এবং নির্বাচনি প্রচারণাই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে।

ঢাকা-১৫ আসনের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। তারা প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার, এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাদের অবস্থান বিবেচনা করে ভোট দেওয়ার কথা ভাবছেন। একজন মধ্যবয়সী ভোটার বলেন, তিনি এখনো দেখছেন কে জনগণের কথা বেশি শুনছে এবং কার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত। তরুণ ভোটারদের একটি অংশ পরিবর্তনের পক্ষে ঝুঁকছেন বলে মত দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে, সোচ্চারের এই জরিপ ঢাকা-১৫ আসনের নির্বাচনি সমীকরণকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। এটি যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন কী ফল আসে, সেটিই হবে এই জরিপের পূর্বাভাস কতটা বাস্তবসম্মত ছিল তার প্রকৃত পরীক্ষা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত