প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাপানে আজ রোববার পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট গ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষের মোট ৪৬৫টি আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থী। নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে বিরাজ করছে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তাপ ও ভোটারদের আগ্রহ।
এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচির নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোট বড় ব্যবধানে জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একাধিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি ও তাদের মিত্র জাপান ইনোভেশন পার্টির জোট সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ৩০০টিরও বেশি আসন পেতে পারে। এমন ফলাফল হলে সংসদে শক্ত অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে তাকাইচির সরকারের।
গত ২৩ জানুয়ারি জাপানের সংসদ ভেঙে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেন। সানাই তাকাইচি জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন। তার নেতৃত্বাধীন সরকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনসংখ্যা হ্রাসজনিত সংকট মোকাবিলাকে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে এনেছে।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে জাপান ইনোভেশন পার্টির। বিরোধী দলগুলো সরকারবিরোধী ভোট একত্রিত করার চেষ্টা করলেও জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা বড় ধরনের সাফল্য পেতে হিমশিম খেতে পারে। তবে ভোটের শেষ মুহূর্তে ভোটার উপস্থিতি ও অনিশ্চিত ভোট এখনো ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংসদের নিম্নকক্ষের মোট ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ২৮৯টি আসনে সরাসরি একক নির্বাচনি এলাকার মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। বাকি ১৭৬টি আসন ১১টি আঞ্চলিক ব্লকের মাধ্যমে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে বণ্টন করা হবে। এই ব্যবস্থায় দলগুলোর মোট প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে আসন ভাগ হয়, যা ছোট দলগুলোর জন্য সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি করে।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাপানের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ভোটারদের কাছে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা তুঙ্গে। এসব ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির নীতির ওপর জনগণের আস্থা পুনরায় নিশ্চিত করাই এই নির্বাচনের মূল চ্যালেঞ্জ।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বুথফেরত জরিপ ও প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ শুরু হবে। রাতের মধ্যেই নির্বাচনের একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, জনমত জরিপের পূর্বাভাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং জাপানের রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসে কি না।