টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচে রাজি পাকিস্তান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩ বার
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচে রাজি পাকিস্তান

প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনা, আবেগ আর বিপুল অর্থনৈতিক সমীকরণ। তবে এবারের বিশ্বকাপের আগে এই ম্যাচ আয়োজন নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা এখন নতুন মোড় নিয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নীতিগতভাবে রাজি হলেও, একগুচ্ছ শর্ত সামনে রেখে দিয়েছে। এই শর্তগুলো শুধু ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং আইসিসির রাজস্ব কাঠামো এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভবিষ্যৎ ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে পিসিবি। তবে এই নমনীয়তার পেছনে রয়েছে কড়া দরকষাকষি। সম্প্রতি লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। সেই বৈঠকে যোগ দেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুলও। এই বৈঠককে ঘিরেই বিশ্বকাপ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

যে আইসিসি ও বিসিসিআইকে এতদিন অর্থনৈতিক শক্তির দাপটে অন্য ক্রিকেট বোর্ডগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেখা গেছে, তারাই এবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের একটি সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে পড়েছে—এমনটাই মনে করছে ক্রিকেটাঙ্গনের একাংশ। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বিশ্বজুড়ে বিপুল সম্প্রচারস্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং বিজ্ঞাপন আয়। সেই ম্যাচ না হলে যে আইসিসির রাজস্বে বড় ধাক্কা লাগবে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সেই বাস্তবতায় পিসিবির সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয় আইসিসি, আর সেই আলোচনায় ডাকা হয় বিসিবিকেও।

গেলো কিছুদিন ভারতের গণমাধ্যমে পাকিস্তানকে একঘরে করে দেওয়ার হুমকি, এমনকি আর্থিক জরিমানার কথাও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং আরেক শীর্ষ কর্মকর্তার পাকিস্তান সফরই প্রমাণ করে দেয়, সেইসব হুমকি বাস্তবতায় কতটা ফাঁপা ছিল। বরং বড় অংকের রাজস্ব হারানোর ভয়েই আইসিসি এখন পিসিবির সঙ্গে সমঝোতার পথে হাঁটছে—এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকেরা।

লাহোরে বৈঠকের আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে আলাদা করে দীর্ঘ আলোচনা করেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সেখানে শুধু পাকিস্তানের স্বার্থ নয়, বিশ্বকাপের সামগ্রিক কাঠামো এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্ষতির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় বিসিবির যে আর্থিক ও ক্রীড়াগত ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ আইসিসির কাছ থেকে আদায় করার বিষয়টি বৈঠকে তোলা হবে—এমন সিদ্ধান্তেই পৌঁছান নাকভি ও বুলবুল।

পিসিবির শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় শুরুর প্রস্তাব। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দুই দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ রয়েছে। পিসিবি চাইছে, আইসিসির মধ্যস্থতায় হলেও বড় দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সিরিজ আয়োজনের নিশ্চয়তা। শুধু বিশ্বকাপ বা আইসিসি ইভেন্টে মুখোমুখি হওয়া নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার কথাই জোরালোভাবে তুলেছে পাকিস্তান।

এছাড়া আইসিসি থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব বাড়ানোর দাবিও করেছে পিসিবি। তাদের যুক্তি, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে যে বিপুল অর্থ আসে, তার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে ক্রিকেট মাঠে সৌহার্দ্য ও খেলোয়াড়সুলভ আচরণ ফিরিয়ে আনার বার্তাও দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ম্যাচ শেষে ক্রিকেটারদের আবারও হাত মেলানো, পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি শর্তের অংশ হিসেবে এসেছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরেও খেলাটির মানবিক দিক তুলে ধরতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রসঙ্গও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করেছে। বিশ্বকাপ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিসিবিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলেছে পিসিবি। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যৎ ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রেও বিসিবিকে বাড়তি সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। ২০২৭ আইসিসি নারী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সহআয়োজক বিসিবি, আর ২০২৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্বও বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যম।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিসিবির ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে এসেছে। আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে সমঝোতায় বিসিবিকে যুক্ত করা মানেই, ভবিষ্যৎ ক্রিকেট রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হতে পারে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু দুই দলের সমর্থকদের জন্য নয়, বরং পুরো ক্রিকেটবিশ্বের জন্যই বিশেষ আকর্ষণ। সেই ম্যাচ ঘিরে যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণ কাজ করে, তা এবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। পাকিস্তানের শর্ত মেনে আইসিসি শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানের সম্মতির খবর যেমন স্বস্তি নিয়ে এসেছে, তেমনি শর্তের জটিলতা নতুন অনিশ্চয়তাও তৈরি করেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাঠে শেষ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি হয় কি না, তা নির্ভর করছে আইসিসির দরকষাকষি ও বোর্ডগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ওপর। তবে একথা নিশ্চিত, এই ম্যাচ ঘিরে ক্রিকেট যে শুধু মাঠের খেলা নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিরও বড় অংশ—তা আরেকবার প্রমাণিত হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত