নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৯ বার
নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ ছয় মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই নতুন মুদ্রানীতিতে নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

গভর্নর জানান, দেশের অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আস্থার অভাবের কারণে প্রত্যাশার তুলনায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে। সরকারের বাজেট কাটছাঁট সত্ত্বেও ব্যাংকখাত থেকে ঋণের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সব শর্ত বাংলাদেশ ব্যাংক পূরণ করেছে।

ডলার রিজার্ভ বিষয়ে গভর্নর জানান, গত এক বছরে দেশে বাজার থেকে মোট চার বিলিয়ন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। তবে কোনো ডলার বিক্রি করা হয়নি। তিনি আরও বলেন, প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ গত এক বছরে ১৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি অর্থবছরে দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে কিছু ব্যাংক অতিরিক্ত তারল্য বা নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে, যার ফলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের গতিশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মুদ্রানীতি কাঠামোর ইন্টারেস্ট রেট করিডোরের আওতায় আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের কার্যক্রম আরও গতিশীল এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা সুসংহত করার জন্য নীতি সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা বা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি শতকরা ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫০ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি বিদ্যমান ১১.৫০ শতাংশে রাখা হয়েছে। ওভার নাইট রেপো নীতি সুদহারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে ১০ শতাংশে। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

গভর্নর মনসুর জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক লক্ষ্য রাখছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, পাশাপাশি ব্যাংক ও বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানো।

তিনি আরও জানান, দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান শক্তিশালী। চলতি অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রাপ্তি ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হারের পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত নগদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে। এটি ব্যাংকগুলোর মধ্যে অর্থ লেনদেন আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুযোগ দেবে। এর ফলে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং মূলধন চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বর্তমান মুদ্রানীতি ঋণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। নীতি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি হারের সামান্য পরিবর্তন ব্যাংকগুলোর নগদ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বৈশ্বিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে চাই এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই। নতুন মুদ্রানীতি সেই লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।”

অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়ানো এবং রেমিট্যান্স প্রবাহকে উৎসাহিত করা প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষকরা জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ মুদ্রানীতি কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মুদ্রানীতির এই ধাপ বাংলাদেশ অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবাহকে সহায়ক করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মুদ্রানীতির এ সিদ্ধান্তে মূলত ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ হবে, ব্যাংকগুলোর নগদ ব্যবহার আরও কার্যকর হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত