প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কৃত্রিম অবনতি ঘটিয়ে নির্ধারিত সময়ের নির্বাচনকে বিলম্বিত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ চিকিৎসক নেতা অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট মহল সচেতনভাবে নির্বাচনের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করতে চায়।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে তিনি আগামী ২১ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে পেশাজীবীদের সম্মেলনস্থল পরিদর্শনে যান।
এ সময় ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “বিষয়টি এখন স্পষ্ট—যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে খারাপ করে তোলা যায়, তাহলে একটি বিশেষ কর্ণার লাভবান হবে—এই উদ্দেশ্য থেকেই চক্রান্ত চলছে। তবে আমরা আশাবাদী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে করে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
মিটফোর্ড এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, “জাতীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবেই বলেছেন—ঘটনা যাই হোক, অন্যায় সবসময়ই অন্যায়। কোনো অন্যায়কে রাজনৈতিকভাবে রঙ লাগানো বা নির্দিষ্ট দলের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা, সেটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত এবং জাতির জন্য হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, অন্যায়ের পক্ষে কোনো সচেতন রাজনৈতিক কর্মী থাকতে পারেন না। অপরাধের সঙ্গে যারাই যুক্ত থাকবে, দল বা মত নির্বিশেষে তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে কাউকে টার্গেট করার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”
তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন মহলের কটাক্ষ প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক, আমরা খালেদা জিয়ার রাজনীতি থেকে শিক্ষা নিয়েছি এবং এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বেই আমরা দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করছি। বিএনপিকে কোনো ষড়যন্ত্রে ফাঁসানো যাবে না, কারণ জনগণ এখন রাজপথে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য প্রস্তুত।”
এই সময় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা তার সঙ্গে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের রফিকুল আলম লাবু, নজরুল ইসলাম, সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. জাহিদ হোসেনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছেছে। বিশেষ করে যখন নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মহলের কার্যক্রম সন্দেহজনকভাবে জটিল হয়ে উঠছে, তখন এমন বক্তব্য রাজনৈতিক আবহকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসবে বলে মত বিশ্লেষকদের।
বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ঘিরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজর এখন আরও গভীরতরভাবে এই প্রক্রিয়ার দিকে। কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয় এবং নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা হয়—তা এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।