প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের জাহাজ নির্মাণ খাতকে আরও গতিশীল ও রফতানি সক্ষম করতে দুই হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ বাড়িয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ এর সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। এই স্কিমের সার্বিক তদারকি ও পরিচালনার দায়িত্বও ওই বিভাগের ওপর থাকবে।
পুনঃঅর্থায়নের আবেদন পদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল ও তহবিল ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণরূপে সংশ্লিষ্ট বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী করতে হবে। ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালার আওতায় গ্রাহকদের ঋণ বা বিনিয়োগ অনুমোদন দিতে পারলেও, তহবিলের আওতায় অর্থ বিতরণ করার আগে অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তহবিল প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। তহবিল প্রাপ্যতার জন্য আবেদনপত্রের সঙ্গে ঋণ বিতরণ ও পরিশোধ সূচি সংযুক্ত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
এ নির্দেশনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে গ্রাহকদের ঋণ বিতরণ করবে এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে অন্তর্বর্তীকালীন কিস্তি বা ঋণ পরিশোধের বিপরীতেও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকবে। এতে গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও সুসংহত ও স্বচ্ছ হবে।
নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় অনুমোদিত বিনিয়োগও এই স্কিমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত। ব্যাংকগুলো তাদের নিজস্ব শরীয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে এই তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। ফলে দেশের জাহাজ নির্মাণ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে প্রদান করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ স্কিমের আওতায় আবেদন করতে পারবে। তবে মেয়াদ বৃদ্ধির বাইরে পূর্বের সার্কুলারে উল্লেখিত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। এতে অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিষ্কার নির্দেশনা থাকবে এবং পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হবে।
জাহাজ নির্মাণ খাত দেশের রফতানি খাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। নতুন পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্কিমের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে নতুন ও প্রস্তাবিত জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং রফতানি আয় বাড়াবে। এটি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
নির্দেশনার গুরুত্ব বোঝাতে ব্যাংক বিশেষজ্ঞরা জানান, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ঝুঁকি কমিয়ে কার্যকর বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে পারবে। তহবিল ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় বিনিয়োগকারীরা আরও আত্মবিশ্বাসীভাবে প্রকল্পে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ধরণের পদক্ষেপ দেশের শিল্পায়ন ও রফতানি বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি সহায়ক হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো নিয়ম মেনে তহবিল বিতরণ করলে জাহাজ নির্মাণ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে স্থানীয় শিল্পের সাথে আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক মান অর্জন করা সম্ভব হবে। নতুন পুনঃঅর্থায়ন নির্দেশনার সঙ্গে গ্রাহক ও ব্যাংকের মধ্যে কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও দৃষ্টান্তমূলক হবে।
এভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আওতায় পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ বৃদ্ধি দেশের জাহাজ নির্মাণ খাতের গতিশীলতা বাড়াবে, রফতানি আয় বৃদ্ধি করবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃস্থাপন করবে।