কলম্বিয়ায় ভারী বৃষ্টিতে ১৩ নিহত, ভূমিধসের তাণ্ডব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
কলম্বিয়ায় ভারী বৃষ্টিতে নিহত ১৩, ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কলম্বিয়ায় মৌসুমের এ সময়ে বিরল ও প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির কর্মকর্তারা রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন প্রদেশে একাধিক নদী এবং ছোট খালগুলো উজানে ওঠার কারণে বসতি এলাকার মানুষ অসহায় অবস্থায় পড়েছেন। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রাণহানির মধ্যে সবচেয়ে বড় ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় নারিনো প্রদেশে। এখানে একটি পাহাড়ি ঝিরি হঠাৎ ফুলে ওঠার পর ভূমিধস নেমে কয়েকটি বসতবাড়ি কাদামাটির নিচে চাপা পড়ে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভূমিধসে সাতজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসী হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে ভীত ও উদ্বিগ্ন। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ জানান, অনেকের বসতঘর এখন ব্যবহারযোগ্য নয়। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় ও ত্রাণ সরবরাহে উদ্যোগী হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার কলম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউএনজিআরডি জানিয়েছিল যে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার কারণে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কলম্বিয়ায় শুষ্ক এবং বর্ষার মৌসুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়েছে। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এই দেশে আলাদা ঋতু না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৃষ্টিপাত ও খরার তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষিণ-পৃথিবীর এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাতের অনিয়মিত ঘনত্ব এবং অপ্রত্যাশিত ভারী বৃষ্টিপাত ভবিষ্যতে আরও বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নদী ও খালগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জলোচ্ছ্বাস নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। তবে তাত্ত্বিক ও প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিপর্যয় রোধে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে কাজ করছে।

কলম্বিয়ার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপর হলেও, এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ও প্রবল বৃষ্টিপাত ভবিষ্যতে আরও বড় ধ্বংসের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে পাহাড়ি ও নদী সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বারবার সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।

উল্লেখযোগ্য, সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ-পৃথিবীর অনেক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে অভূতপূর্ব বৃষ্টিপাত ও ভূমিধসের ঘটনা বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে একে রক্ষা করার জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। কলম্বিয়ার সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা চেষ্টা করছে, ধ্বংসস্তূপ সরানো, আহতদের চিকিৎসা, ত্রাণ বিতরণ এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে।

এ ঘটনার প্রভাব শুধু প্রাণহানিতেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি ও অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ও ভাঙাচোরা সড়ক সম্প্রদায়ের দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনৈতিক ক্ষতির দিকে পরিচালিত করতে পারে।

কলম্বিয়ার নাগরিকরা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও সচেতন হচ্ছে। সরকারি দফতর, স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে যাতে আগাম সতর্কতা প্রদান এবং উদ্ধার কার্যক্রম আরও কার্যকর করা যায়। স্থানীয় স্কুল ও হাসপাতালগুলোও জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

এভাবে, কলম্বিয়ায় চলমান প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের প্রভাবে মানুষের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে। সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও ত্রাণ কার্যক্রমে দ্রুততা নিশ্চিত করা হলে, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত