প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এসএম ফয়সল নির্বাচনী এলাকায় চা-বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছেন। রোববার রাতে সুরমা চা-বাগানের ১০নং মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি চা শ্রমিকদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, বহু বছর ধরে নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ঘাটতি তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে এই সব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন।
ফয়সল বলেন, “শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, নারীর মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন—এই সব বিষয় চা-বাগান সহ সকল মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি বাগানে মানসম্মত স্কুল, স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, নিরাপদ বাসস্থান ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। চা শ্রমিকরা যদি নিশ্চিন্তে বলতে পারেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ নিরাপদ’, তখনই আমার রাজনীতির সার্থকতা সত্যিই পূর্ণ হবে।”
সমাবেশে উপস্থিত চা শ্রমিকদের মধ্যে মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার মোট ২৮টি চা-বাগান থেকে কয়েক হাজার নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়; ঢাকঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শ্রমিকরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে মিছিল করে সভাস্থলে প্রবেশ করেন। তাঁদের হাতে ধানের শীষ প্রতীকের ছবি ও দলীয় পতাকা লক্ষ্য করা যায়। সমাবেশে চা-বাগান নেতারা জানান, এটি প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে চা শ্রমিকদের অংশগ্রহণে রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো এবং প্রায় ৭৫ হাজার ভোটার একত্রিত হয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
ফয়সল আরও বলেন, “সব মানুষ সমতার ভিত্তিতে নাগরিক সুযোগ সুবিধা ভোগ করবে। কোন মানুষ বৈষম্যের শিকার হবে না। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি থাকবে না। হিন্দু-মুসলমান সবাই সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে চা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যাতে তাদের জীবনমান উন্নত হয় এবং প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ শাফকাত আহমেদ বলেন, “যাদের ঘামে দেশের অর্থনীতি সবুজ থাকে, তাদের জীবন এখনও রঙিন হয়নি। চা শ্রমিকরা যুগের পর যুগ ধরে নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা ভোরের কুয়াশা ভেদ করে বাগানে নামেন, রোদ-বর্ষা উপেক্ষা করে পাতা তোলেন, অথচ তাদের প্রাপ্য সম্মান, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। এটি কোনো দয়া নয়—এটি তাদের ন্যায্য অধিকার। অসুস্থ হলে হাসপাতালে যেতে কষ্ট হয়, সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ সীমিত, নিরাপদ বাসস্থান ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। তাদের দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সভায় শাহজাহানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন, শাহজাহানপুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলফাজ মহালদারসহ চা-বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, চা শ্রমিকরা এবার নিজেদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দেবে। দলমত নির্বিশেষে শ্রমিকরা জানেন, শুধুমাত্র ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি সমর্থন তাদের জীবনের মান উন্নয়নের পথ খোলার জন্য কার্যকর হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হবিগঞ্জ-৪ আসনে চা শ্রমিকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং তাদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। নির্বাচনী প্রচারণায় শ্রমিকদের জীবনমান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার ওপর গুরুত্বারোপ ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সমাবেশে শ্রমিকদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা থেকে স্পষ্ট যে, তারা শুধু ভোটের অধিকার প্রয়োগই করছে না, বরং জীবনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণের প্রতীক হিসেবেও নিজেদের সমর্থন প্রকাশ করছে।