র‍্যাবের হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য দিলেন ইকবাল করিম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার
র‍্যাবের হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য দিলেন ইকবাল করিম

প্রকাশ:  ৯ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে র‍্যাবের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামনে এনেছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ১০৪ জনকে গুম করে হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যগ্রহণে তিনি এসব তথ্য দেন। এই সময় কাঠগড়ায় বসে পুরো সাক্ষ্য নথিভুক্ত করেছেন মামলার আসামি সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান।

ইকবাল করিম ভূঁইয়া ট্রাইব্যুনালে জানান, হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি সেনাবাহিনী থেকে ডিজিএফআই ও র‍্যাবে সেনা কর্মকর্তা সরবরাহ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, গুম-খুন এবং আয়নাঘর সংস্কৃতি সৃষ্টির কারণে র‍্যাব এবং ডিজিএফআই বিলুপ্তির ইচ্ছা তার ছিল। ট্রাইব্যুনালে ইকবাল করিম উল্লেখ করেছেন, এটি ছিল মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত অবস্থান।

এই মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহমানের বিরুদ্ধে তিনটি বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশন দল যুক্তি দেখাচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ডগুলোতে সেনাবাহিনী, বিশেষ করে র‍্যাব এবং ডিজিএফআই-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ইকবাল করিমের সাক্ষ্য আসামিপক্ষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি সরাসরি এই ঘটনার সময় সেনাবাহিনীতে দায়িত্বে ছিলেন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময় আদালতে তার বক্তব্যের প্রতি গণ্য বিচারকের নজর ছিল। ইকবাল করিমের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে সীমাবদ্ধ ছিলেন। ট্রাইব্যুনালে তাঁর মন্তব্য অনুসারে, র‍্যাব এবং ডিজিএফআই-এর কর্মকাণ্ড মানবাধিকারের সীমার বাইরে ছিল এবং এই ধরনের আচরণ সামরিক সংস্থার স্বাভাবিক নীতির বিপরীত।

আইনজীবীদের প্রশ্নের উত্তরে ইকবাল করিম বলেন, “হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথাসম্ভব পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু শক্তিশালী রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক চাপের কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তবে আমার ইচ্ছা ছিল এই ধরনের অপরাধ বন্ধ করা।”

প্রসিকিউশন পক্ষ আশা করছে, সাবেক সেনাপ্রধানের এই সাক্ষ্য মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ইকবাল করিমের জেরা নেবেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট, সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তাকে প্রশ্ন করবেন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল জোর দিয়েছে যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্বরূপ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ইকবাল করিমের সাক্ষ্য এই মামলার প্রমাণচিত্রকে আরও সুস্পষ্ট করতে সাহায্য করবে। এর মাধ্যমে নির্যাতিত পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে এবং দেশের বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা দৃঢ় হবে।

এ ঘটনায় দেশব্যাপী মানবাধিকার সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা গভীর মনোযোগ দিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, সাবেক সেনাপ্রধানের স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুধু ঘটেছিলই না, এটি পরিকল্পিত এবং সংস্থাগতভাবে সমর্থিত ছিল।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ইকবাল করিম বলেন, “আমার লক্ষ্য ছিল এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধ করা। এটি কোনো ব্যক্তিগত নয়, দেশের জন্য একটি ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।” ট্রাইব্যুনালে তার বক্তব্য দেশের ইতিহাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটকে স্পষ্ট করেছে।

সংক্ষেপে, ইকবাল করিম ভূঁইয়া ট্রাইব্যুনালে যে তথ্য দিয়েছেন তা শুধু মামলার প্রমাণ নয়, এটি বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে গণ্য হবে। তার সাক্ষ্য ভবিষ্যতে অন্য মামলায়ও প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিচার ব্যবস্থার ন্যায়পরায়ণতার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত