কানপুরে মাতাল অবস্থায় ল্যাম্বারগিনি দুর্ঘটনা, ছয় আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার
কানপুরে মাতাল অবস্থায় ল্যাম্বারগিনি দুর্ঘটনা, ছয় আহত

প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের কানপুরে একটি বিলাসবহুল ল্যাম্বারগিনি রেভুয়াল্টো দুর্ঘটনার ঘটনায় কমপক্ষে ছয়জন পথচারী আহত হয়েছেন। রোববার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে ভিআইপি রোডে ঘটে এই ঘটনা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন তামাক ব্যবসায়ী কে কে মিশ্রের ছেলে শিবম মিশ্র। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িটি মাতাল অবস্থায় দ্রুতগতিতে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন এবং পার্ক করা অন্যান্য যানবাহনের ওপর উঠে যায়।

দুর্ঘটনার সময় ল্যাম্বারগিনি প্রথমে একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় এবং পরে পার্ক করা রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলকে আঘাত করে। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী প্রায় দশ ফুট দূরে ছিটকে পড়েন। এরপর গাড়িটি মোটরসাইকেলের সামনের চাকাকে টেনে নিয়ে যায় এবং শেষে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আঘাত লাগে। এ ঘটনায় তৌফিক আহমেদ নামে একজন পথচারী গুরুতরভাবে আহত হন। তিনি জানান, রাস্তার ধারে নিজের বাইকের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন শিবমের গাড়িটি তাঁকে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় আহত অন্যদেরও হাড় ভেঙে গেছে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

ডিসিপি (সেন্ট্রাল) অতুল কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ঘটনার সময় শিবম মিশ্র গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুতগতিতে চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর গাড়ি থামানোর বদলে মিশ্র পালানোর চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে পথচারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ল্যাম্বারগিনির জানালা ভেঙে মিশ্রকে বের করে এবং অবশেষে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আহতদের সঙ্গে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠায়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিবম শারীরিক অসুস্থতার কারণে গাড়ি চালানোর সময় খিঁচুনি অনুভব করেন, যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। স্থানীয়রা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, রাস্তার নিরাপত্তা এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দুর্ঘটনার ল্যাম্বারগিনির দাম ১০ কোটি টাকারও বেশি, এবং এটি উত্তর-পশ্চিম দিল্লির রোহিণীতে নিবন্ধিত। গাড়িটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, যেমন এই ঘটনার প্রমাণ দেয়।

কানপুরের স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করে গাড়ি চালানোর সময় দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

দুর্ঘটনার পরের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এবং উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি দ্রুত গতিতে রাস্তার উপর দিয়ে চলার কারণে এলাকায় ব্যাপক ভয় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে আহতদের সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং গাড়ি ও দায়ী চালককে আইনের আওতায় আনা হবে।

এই দুর্ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, মাতাল অবস্থায় বা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে উচ্চমূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি চালানো কতটা বিপজ্জনক। এর ফলে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহন ব্যবহারকারীর জীবন বিপন্ন হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণকে একসাথে কাজ করে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত