প্রকাশ: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিএনপি নিরাপদ দেশ গড়তে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় এ কথা বলেন। দেশের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিএনপি পরিকল্পনা করছে এবং সেটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়। বিশেষ করে বিএনপির প্রতি জনগণের প্রত্যাশা বেশি। সেই অনুযায়ী দেশ ও মানুষের কল্যাণে কার্যকর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, “দেশে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। জনগণ যেন নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে, ঘরে শান্তিতে ঘুমাতে পারে এবং সুরক্ষিতভাবে চলাফেরা করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই দেশ গঠন করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, দেশ গঠনে জনগণকে একত্রিত করে কাজ করতে হবে। ইতিহাস প্রমাণ করে, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে একযোগে সংগ্রামের মাধ্যমে, আর তাই দেশের পুনর্গঠনও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় সম্ভব।
তিনি বিএনপির অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবায়ন ক্ষমতার কথাও তুলে ধরেন। “বিএনপি জন্ম থেকে জনগণের পাশে আছে। জনগণের সুখে-দুঃখে আমরা সঙ্গী। আমাদের পরিকল্পনা এবং অভিজ্ঞতা দেশের পুনর্গঠনে কাজে লাগানো হবে। মূল লক্ষ্য হলো দেশকে পুনর্গঠন করা, যা পূর্ববর্তী সরকার ভেঙে দিয়েছে।” এছাড়া তিনি বিএনপির রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্বও উল্লেখ করেন। প্রান্তিক স্তরের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবারভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে তাদের সহায়তা প্রদান করা হবে।
কৃষক ও যুব সমাজের কল্যাণেও বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষকদের স্বচ্ছলতা আনার জন্য এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য সহজ সুদে ঋণের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে কেউ নিজের জমি বিক্রি করতে না বাধ্য হয়। দেশের স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ করা হবে। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে, পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদান করা হবে।
পথসভায় তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে সরাসরি আলোচনা না করার পরামর্শও দেন। তার বক্তব্য, রাজনৈতিক বিতর্কের পরিবর্তে জনগণ ও দেশের কল্যাণে মনোনিবেশ করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপিই নারীদের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা করেছে এবং কৃষক ও প্রবাসীদের সহায়তার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তারেক রহমান দাবি করেন, বিএনপি একমাত্র দল যা দেশের সুষ্ঠু ও কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে—এই পরিস্থিতি বদলানোর দিন আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ৭১ ও জুলাইয়ের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি কেবল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নির্বাচন নয়, বরং দেশ গঠনের নির্বাচনের প্রতীক।
এর আগে তিনি বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমাদের হাতে অভিজ্ঞতা আছে। সেটি কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। আমরা চাই, জনগণ যেন নিরাপদে ঘুমাতে পারে, নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে।”
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিকল্পনার পাশাপাশি বিএনপি প্রবাসীদের জন্যও পদক্ষেপ নেবে। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। কৃষক, নারী ও যুব সমাজের স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন করবে বিএনপি।
এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে দেশের নিরাপত্তা, জনগণের সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রতিশ্রুতি দেন। পথসভায় অংশগ্রহণকারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বিএনপির উন্নয়নমূলক পরিকল্পনায় সমর্থন জানান।
বিএনপির এই উদ্যোগ দেশের পুনর্গঠনে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনগণের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।