এখন থেকেই ভোট পাহারা দিতে হবে: শফিকুর রহমান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৯ বার
এখন থেকেই ভোট পাহারা দিতে হবে: শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ভোটের পাহারাদারি শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, যেন কোনো জালিয়াত, ভোটচোর বা অবৈধ ইঞ্জিনিয়ার জনগণের কপাল নিয়ে খেলতে না পারে। ভোটের দিন শুধু ভোট দিয়ে ঘরে ফিরে যাওয়া নয়, বরং বিজয়ের মালা পরিয়ে দিয়ে তবেই ঘরে ফেরার আহ্বান জানান তিনি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ঢাকা–১৩ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মামুনুল হকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মাহফুজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, যিনি ঢাকা–১১ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী।

শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকেই ১১ দল একত্রিত হয়েছে। তিনি জানান, এই ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে সামনে রেখেই এই জোট গড়ে উঠেছে। তার ভাষায়, ১৮ কোটি মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা—দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র—এই ঐক্যের লক্ষ্য সেটাই বাস্তবায়ন করা।

তিনি বলেন, এই ঐক্য চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ ও অপরাধজগতের কারিগরদের বিরুদ্ধে। জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন বিজয় অবশ্যম্ভাবী—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ জনতার বিজয় হবেই।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও রেকর্ডিং ডিভাইস নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে অপরাধ আড়াল করা যায়। আজ আবার সেই একই অন্ধকার গলিপথে হাঁটার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। কার ইশারায় নির্বাচন কমিশন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে সব ধরনের ক্যামেরা, মোবাইল ও রেকর্ডিং নিষিদ্ধ করার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। জুলাইয়ের সময় যেভাবে অন্যায়কে মেনে নেওয়া হয়নি, আজও তা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে দেন।

একই সমাবেশে নাহিদ ইসলামের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আজ সন্ধ্যার আগেই যদি এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করা হয়, তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার জন্য যারা ষড়যন্ত্র করছে, তার দায় তাদেরকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার ভয়ে হতাশ হয়ে পড়েছে এবং সেই হতাশা থেকেই চোরাই পথে নির্বাচন হাইজ্যাক করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, গুন্ডা লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা চলছে।

তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধারা এখনো জেগে আছে। জনগণের ভোট ছিনতাইয়ের দুঃসাহস কেউ দেখালে তা প্রতিহত করা হবে। জনগণের ভোট আবার কেউ কেড়ে নেবে—এই দুঃস্বপ্ন দেখার সুযোগও দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেন তিনি।

ঢাকা–১৩ আসনকে মর্যাদাপূর্ণ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দুঃখজনকভাবে কিছু অসৎ লোক এই এলাকাকে চাঁদাবাজি, মাদক ও দখলবাজিতে জর্জরিত করেছে। তরুণদের বিপথগামী করে অস্ত্রবাজি ও অপরাধে জড়ানো হচ্ছে। এসব তরুণকে সংশোধন করে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, তারা কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে নয়, বরং ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে নির্বাচনে নেমেছেন। নির্বাচিত হলে কোনো দলীয় সরকার নয়, বরং জনগণের সরকার কায়েম করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। তার মতে, নির্দিষ্ট দলের নয়, বরং পুরো জাতির বিজয়ই হবে তাদের মহাবিজয়।

তিনি বলেন, একটি পক্ষ দল ও পরিবারের বিজয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। জনগণ অতীতে তাদের দেখেছে এবং এখনো তাদের লোভ দেখছে। শান্তিপ্রিয় জনগণ এসব শক্তিকে প্রত্যাখ্যান করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আমলা ও সচিবদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, কিছু অসৎ আমলা এখনো দলবাজি করছে এবং প্রার্থী জেতানোর চেষ্টা করছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, কে জিতবে বা হারবে, তা নির্ধারণ করবে জনগণের ভোট—কোনো আমলার ইচ্ছা নয়। অতীতে অপরাধ করে যারা ক্ষমা পেয়েছে, ভবিষ্যতে তারা সেই ক্ষমা পাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন প্রত্যাখ্যান করে জামায়াত আমির বলেন, এই রাষ্ট্রে সবাই সমান অধিকার পাবে। আবার কোনো জুলাই তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপট তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান জানান তিনি।

শেষে ঢাকা–১৩ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রতীক ‘রিকশা’কে জনগণের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই প্রতীক তরুণ, নারী ও সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জয়ী হলে মামুনুল হক শুধু এই আসনের নয়, পুরো দেশের মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে সংসদে কথা বলবেন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত