সরকারি গুদামে ২২ লাখ টন খাদ্য মজুত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার
সরকারি গুদামে ২২ লাখ টন খাদ্য মজুত

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বর্তমানে দেশের সরকারি খাদ্য গুদামে ২২ লাখ ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারে চাহিদা–যোগান সুষম রাখতে এই মজুত রাখা হয়েছে। এই তথ্য দিয়েছেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মজুত এবং ভূমিসেবার ডিজিটালীকরণের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “খাদ্য নিরাপত্তা আমাদের জন্য অগ্রাধিকার। তাই সরকার খাদ্যশস্য যথেষ্ট পরিমাণে মজুত রাখছে। বর্তমানে সরকারি খাদ্য গুদামে ২২ লাখ ১০ হাজার টন খাদ্যশস্য রয়েছে, যা দেশের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত।” তিনি আরও জানান, খাদ্যশস্যের মজুত সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে এবং জনসাধারণকে অপ্রত্যাশিত মূল্যবৃদ্ধি থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।

খাদ্য মজুতের পাশাপাশি দেশে খাদ্য সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “আমরা চাইলে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও স্বচ্ছ করতে পারি। গুদাম ও বিতরণ ব্যবস্থায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে এবং প্রযুক্তির সাহায্যে সরবরাহ প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্ভুল করা হচ্ছে।”

উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের ভূমিসেবা পুরোপুরি ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এতে করে ভূমি অফিসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমে এসেছে। তিনি বলেন, “ডিজিটালীকরণের মাধ্যমে এখন নাগরিকরা ঘরে বসেই নকশা, খতিয়ান ও জমিজমা সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারেন। যদিও পুরোপুরি সফলতা এখনও অর্জিত হয়নি, তবে ভূমি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া এবং লেনদেনের প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে।”

এছাড়া তিনি সতর্ক করেন যে, খাদ্য নিরাপত্তা শুধু মজুত রাখার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। এটি কার্যকর বিতরণ ব্যবস্থা, বাজার পর্যবেক্ষণ এবং দুর্নীতি–হীন পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি মানুষের খাদ্য নিরাপদ এবং সহজলভ্য হোক। এজন্য সরকারি গুদাম থেকে স্থানীয় বাজারে খাদ্য সরবরাহ সঠিকভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকা এবং ভূমিসেবার ডিজিটালীকরণ সরকারী কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এটি খাদ্য সংকট মোকাবিলা, বাজার স্থিতিশীলতা এবং জনগণের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আলী ইমাম মজুমদার এই বিষয়েও আশ্বাস দেন যে, সরকার খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভূমিসেবা উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, “দেশে যে পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, তা দেশের জনসংখ্যার প্রয়োজন মেটাতে যথেষ্ট। তবে আমাদের লক্ষ্য হলো খাদ্য মজুতের সঙ্গে সঙ্গে বিতরণ ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করা, যাতে সময়মতো মানুষের হাতে খাদ্য পৌঁছায়।”

সংবাদে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে খাদ্য সরবরাহের মান উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এতে করে সরকারি গুদাম থেকে স্থানীয় বাজারে খাদ্য সরবরাহে বিলম্ব ও অপচয় কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত তথ্য ঘরে বসেই পাওয়া গেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষও সহজে সরকারি সেবা নিতে পারবে।

এই উদ্যোগগুলো দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের খাদ্য মজুত, বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং ভূমি ডিজিটালীকরণের মাধ্যমে সরকার আশা করছে, খাদ্য ও ভূমি সম্পর্কিত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং নাগরিকদের সুবিধা বাড়বে।

সারসংক্ষেপে, আলী ইমাম মজুমদারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সরকারি খাদ্য গুদামে ২২ লাখ ১০ হাজার টন খাদ্য মজুত রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বাজার স্থিতিশীল রাখা, এবং নাগরিকদের সুবিধার্থে ভূমিসেবা ডিজিটালীকরণ—এই তিনটি কার্যক্রম দেশের খাদ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত