মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করেছি: উপদেষ্টা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৫ বার
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করেছি: উপদেষ্টা

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নেই।

উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, “মাছ ও মাংসের উৎপাদন বাড়াতে আমরা অনেক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছি। কিন্তু পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটি অনেক কাঠামোগত এবং বৈশ্বিক কারণে ঘটে। বিশেষ করে মাছের ফিডের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র ১৫ থেকে ১৬ মাসে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব নয়।”

তিনি আরও জানান, গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই কাজ করেছে। যদিও সময় সীমিত ছিল, তবুও মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। “আমাদের অর্জন ও ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু স্বল্প সময়ে আমরা যে সাফল্য অর্জন করেছি, তা গুরুত্বপূর্ণ,” তিনি বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “আমরা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য আইনগত কাঠামোকে শক্তিশালী করেছি। একই সঙ্গে টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খামারিদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করাও আমাদের অগ্রাধিকার ছিল। আমাদের লক্ষ্য ছিল দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করা এবং খামারিদের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা।”

ফরিদা আখতার বলেন, “আমাদের পরিকল্পনায় দেশীয় মাছ, গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ছিল। এ জন্য আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিদের সহায়তা করেছি। খামারিরা যাতে তাদের উৎপাদন সহজে বৃদ্ধি করতে পারে এবং অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত থাকে, তা আমাদের লক্ষ্য ছিল।”

উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছি, যাতে দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত সমৃদ্ধ হয়। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার ও সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। খামারিদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হয়েছে।”

তিনি সাংবাদিকদের জানান, মৎস্য খাতে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক আমিষ চাহিদার একটি অংশ স্থানীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। “আমরা স্থানীয় বাজারে মাছের যোগান বাড়াতে ফিড উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নতি করেছি। খামারিরা যাতে আরও বেশি মাছ উৎপাদন করতে পারে, তার জন্য প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”

প্রাণিসম্পদ খাতে মন্ত্রণালয় গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ, হাঁস-মুরগি এবং অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। উপদেষ্টা বলেন, “খামারিদেরকে উন্নত প্রজাতির প্রাণি সরবরাহ, চাষের আধুনিক পদ্ধতি শেখানো এবং বাজার সংযোগের সুযোগ প্রদান আমাদের অগ্রাধিকার ছিল। এভাবে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত হয়েছে এবং দেশীয় আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করেছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, পণ্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ার পেছনে অনেক বৈশ্বিক ও স্থানীয় কারণ আছে। বিশেষ করে মাছের ফিডের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে। এটি সরাসরি খুচরা মূল্যে প্রভাব ফেলেছে। “মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় দাম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নেই। তবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খামারিদের সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে,” ফরিদা আখতার বলেন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, স্বল্প সময়ে নানা জটিলতার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে কিছু অর্জন এবং কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে। “আমরা চেষ্টা করেছি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে গতিশীল ও টেকসই করা। স্বল্প সময়ে আমরা যা করতে পেরেছি, তা গুরুত্বপূর্ণ। খামারিরা এখন আরও বেশি উৎপাদন সক্ষম এবং দেশের জনসংখ্যার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাণিজ আমিষ সরবরাহে অবদান রাখছে।”

তিনি মনে করিয়ে দেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও পরিবেশগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। “আমরা চাই, খামারিরা উন্নত জীবনযাপন করতে পারুক এবং দেশের মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিত হোক। এই কাজের মধ্য দিয়ে সরকারের দায়িত্ব এবং মানুষের চাহিদার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে।”

ফরিদা আখতার বলেন, “আমাদের মন্ত্রণালয় সর্বদা খামারিদের পাশে থাকবে। উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রজাতি সংরক্ষণ, বাজার ব্যবস্থা উন্নয়ন ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করব।”

এভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া পদক্ষেপ এবং স্বল্প সময়ে অর্জিত সাফল্য দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং খামারিদের জীবন-মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মন্ত্রণালয়ের এসব কার্যক্রম দেশের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে, যেখানে শুধু উৎপাদন নয়, পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং খামারিদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মিলিতভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত