কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবিদ্ধ হামলায় নিহত ১০

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮ বার
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুলিবিদ্ধ হামলায় নিহত ১০

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের শান্ত ও প্রত্যন্ত টাম্বলার রিজ শহর আজ এক অবর্ণনীয় নৃশংসতার মুখোমুখি হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে হামলাকারীও রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। পুলিশ ও কর্তৃপক্ষ এখনও পুরো ঘটনার কারণ ও প্রেক্ষাপট বের করতে কঠোরভাবে চেষ্টা করছে। এই ভয়াবহ ঘটনায় গোটা শহর শোকের ঊর্ধ্বে আতঙ্কে ভুগছে।

টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল, যা প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থীকে সংযুক্ত করে, স্থানীয়সময় ১:২০ পিএম-এর দিকে একটি “একটিভ শুটার” রিপোর্ট পায় কর্তৃপক্ষ। তৎক্ষণাৎ রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (RCMP) স্কুল ও আশপাশের এলাকায় জরুরি প্রতিক্রিয়া জোরদার করে এবং একটি পিপিএ (পুলিশ ইনিশিয়েটেড পাবলিক অ্যালার্ট) পাঠিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক করে দেয়। পুলিশ এলাকায় সবাইকে দেরি না করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে ও দরজা লক করে থাকার নির্দেশ দেয়। কিন্তু কয়েক ঘন্টার ভেতরেই ভয়াল বাস্তবতা সামনে আসে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আইনশীল বাহিনী স্কুলের ভেতর আগুন লাগানোর মতো আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকা অবস্থায় বহু আহতকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্র ও হাসপাতালে পাঠায়। তদন্তে তারা স্কুলের ভিতর ছয়জনকে মৃত অবস্থায় পায়। আহতদের মধ্যে একজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। স্কুলের বাইরে একটি আশেকেও দুইজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়, যারা পুলিশের ধারণা এই ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। এবং বন্দুকধারীও নিজ হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ অনুমান করছেন এটি আত্মহত্যার মতো একটি ঘটনা।

এই ঘটনার ফলে কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন, যারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে দুইজনকে গুরুতর অবস্থায় অবস্থান পরিবর্তন করে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমান অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন, অনেকের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আরও অনেকের পরিস্থিতি এখনো স্পর্শকাতর।

টাম্বলার রিজ শহরটির জনসংখ্যা মাত্র প্রায় ২,৪০০ জন — একটি স্বল্প জনসংখ্যার প্রত্যন্ত কমিউনিটি যেখানে সবাই একে অপরকে চেনেন। তাই এমন ভয়াবহ ঘটনায় পুরো শহর স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। স্কুল shootings কানাডায় বিরল ঘটনা, তাই এই মারাত্মক আঘাত দেশ জুড়ে এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা গভীর শোক ও হতাশার মধ্যে রয়েছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার প্রার্থনা করছেন।

RCMP কর্তৃপক্ষ এখনও হামলাকারীর নাম প্রকাশ করেনি এবং ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য জানিয়েছে না। পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছেন এবং সন্দেহভাজন বা অন্য কোনো সহযোগী হামলাকারী আছে কি না তা নির্ধারণের জন্য কাজ করছেন। তারা স্কুল ও আশপাশের বাসস্থানগুলোর তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় আর কারো নিরাপত্তা হুমকির মুখে নেই।

প্রদেশের পাবলিক সেফটি মন্ত্রী ও অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে “ধ্বংসাত্মক” বলে অভিহিত করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটিকে সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়, মনোবিদ ও সামাজিক সহায়ক সেবা দলও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে। শহরের স্কুল জেলা ঘোষণা করেছে, এই ভয়াবহ ঘটনার পরে সংশ্লিষ্ট সাত দিন স্কুল বন্ধ রাখা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা মানসিক ও সামাজিক সহায়তা পেতে পারে।

এই ধরনের ঘটনাগুলো শুধুমাত্র ওই এলাকার ওপরই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না; এটি সমগ্র জাতিগত ও মানবিক অনুভূতির ওপর এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করে। কানাডার মতো শান্তিপূর্ণ দেশেও যেভাবে এমন একটি নৃশংস ঘটনা ঘটল, তা দেশজুড়ে নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও সমাজের সহায়ক কাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও চিন্তা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন হামলার কারণ, প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যদিও পুলিশ ও সরকারি তদন্তকারীরা এখনো পুরো ঘটনার কারণ বের করতে ব্যস্ত, তা স্বত্বেও এই ট্র্যাজেডি তরুণদের, তাদের পরিবার ও শিক্ষকদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে — যার প্রভাব বহু বছর ধরে স্থায়ী হয়ে থাকতে পারে।

এই অনাকাঙ্খিত ও হৃদয়বিদারক নৃশংসতায় শহরটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, কিন্তু একই সাথে কমিউনিটি এখন এক হওয়ার জন্য, শান্তি ফিরে আনার জন্য এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কানাডা আজকে শুধু একটা শহরকে হারায়নি, বরং একটি পরিবারের মতো অনুভূতির সাথে যুক্ত একটি সমাজকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত