ফরিদপুরে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের হুঁশিয়ারি: “ফ্যাসিস্ট সংগঠনের সবকিছু উপড়ে ফেলতে হবে”

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩২ বার
ফরিদপুরে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিকের হুঁশিয়ারি: “ফ্যাসিস্ট সংগঠনের সবকিছু উপড়ে ফেলতে হবে”

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিক মঙ্গলবার ফরিদপুর পুলিশ লাইনে আয়োজিত এক বিশেষ কল্যাণ সভায় দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট সংগঠনের যেসব অপরাধী সদস্য এখনো সমাজে সক্রিয় রয়েছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতেই হবে। তা না হলে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা হবে।’’

জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এই সভায় ফরিদপুর জেলার পুলিশ সুপার আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে ডিআইজি রেজাউল করিম আরও বলেন, “এই দেশের মাটিতে ফ্যাসিবাদের কোনো ঠাঁই নেই। যারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের ব্যানারে সন্ত্রাস ও সমাজবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করতে হবে। পুলিশের কোনো সদস্য যদি তাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার প্রমাণ পান, তবে সেই সদস্যের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সভায় তিনি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, “আপনারা জনগণের সেবক। মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন, ভোগান্তি বাড়াতে নয়। থানায় সেবা নিতে আসা কোনো সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। থানাকে হতে হবে বিশ্বাস ও সহানুভূতির জায়গা।”

তিনি পুলিশের সদস্যদের প্রতি সৎ ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অর্থনৈতিক অনিয়ম, দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার— এসব কিছু একেবারেই বরদাশত করা হবে না। দায়িত্ব পালনের সময় সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে শুধুমাত্র সন্ত্রাসীদের নয়, দায় পড়বে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারও।”

সভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে ডিআইজি রেজাউল বলেন, “ফরিদপুরসহ দেশের কোথাও কোনো সন্ত্রাসী, গডফাদার কিংবা চাঁদাবাজের স্থান হবে না। যারা জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—কোনো ছাড় নয়। যদি পুলিশের ভেতর থেকেও কেউ তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাকে চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করা হবে।”

সভা শেষে তিনি জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন। পরে উদ্বোধন করেন পুলিশের মাল্টিপারপাস হল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আজম, সদর পুলিশ সার্কেলের কর্মকর্তা আজমির হোসেনসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভাটি শেষ হয় শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান আবারও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত