প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্রীয় গণভোটের আলোচনার মাঝেই বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামী এবং এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতি সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি এনডিটিভি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ক্ষমতায় আসলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা হবে এবং তা দেশের পরবর্তী নীতির অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে।
জামায়াতের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে সকলের দৃষ্টি কাঙ্ক্ষিত। ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে আমরা দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই। এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সর্বদা অগ্রাধিকার পাবে।”
আমির আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সরকারি নীতি নির্ধারণে কেবল রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, দেশের সামগ্রিক কল্যাণকেই মুখ্য রাখবে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ক্ষমতায় আসলে বাংলাদেশের বহুমুখী উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সংহত ও স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। এই অবস্থান নিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন, “আমরা দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে রাজনৈতিক রঙ্গভূমি নয়, বরং স্থায়ী কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব হিসেবে দেখতে চাই।”
ডা. শফিকুর রহমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি দলের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা সমান। এখানে সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। প্রত্যেককে আমরা প্রথম শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখি। কখনো ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তিতে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু নিয়ে বিভাজন বা বৈষম্যকে আমরা প্রশ্রয় দিই না।” এই মন্তব্যটি বাংলাদেশের সংবিধানিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং ধর্মনিরপেক্ষ নীতির গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির আরও বলেন, “দেশের মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়গুলো সবসময় আমাদের প্রধান দিকনির্দেশ। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা হলে এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে আরও এগিয়ে নেবে, এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিসরে দায়িত্বশীল neighbour হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করবে।”
ডা. শফিকুর রহমানের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে স্থিতিশীল নীতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, এবং প্রযুক্তি বিনিময় বাড়ানোর মাধ্যমে শুধু দুই দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত হবে না, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধিতেও অবদান রাখা সম্ভব হবে।”
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জোর দিয়েছেন যে, জামায়াত সরকারে আসলে দেশের ভেতরেও সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন হবে না। তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুদের জন্য বিশেষ সুবিধা নয়, বরং সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। দেশের নাগরিক যেই সম্প্রদায় বা ধর্মের হোক, তাদের জীবন ও মর্যাদা সমান গুরুত্ব পাবে।”
এছাড়া তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হলে দেশের মানুষের আত্মবিশ্বাস ও গণতান্ত্রিক চেতনা আরও শক্তিশালী হবে। দেশের ভেতরের ন্যায্য ও দায়িত্বশীল সরকার, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক—এই তিনটি একসাথে কাজ করলে দেশের উন্নয়নের পথ সুগম হবে।”
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী নীতি গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দেশের সকল নাগরিককে সমান মর্যাদা দেওয়া এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কের মাধ্যমে দেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমানের এই মন্তব্য বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। তিনি বলেছেন, “আমরা চাই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ ও সমৃদ্ধ জীবন যাপন করুক। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সমন্বিত নীতি এবং সুসংহত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক।” এই বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট যে, জামায়াত সরকারে আসলে দেশব্যাপী সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত হবে।
সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমিরের জোর দেওয়া আরেকটি বিষয় হলো, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ নয়, বরং এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ এবং প্রযুক্তির মতো বহুমাত্রিক ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার পাবে। তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ, বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।”
সংক্ষেপে, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের মূল দিক হলো—ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা সমান রাখা হবে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়নিষ্ঠ, দায়িত্বশীল এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তৈরি করা।”
এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে জামায়াতের নীতি, কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ন্যায়নীতি নিয়ে পাঠক ও জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করছে।