মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এজেন্ট প্রবেশে বাধা, দাবি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনা রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনে চোখে পড়ার মতো।

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তেজনা রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনে চোখে পড়ার মতো। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১১দলীয় ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনি জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বৃহস্পতিবার সকালে মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরিদর্শনে এসে কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ও বাধার অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, কেন্দ্রের ভেতরে তার পোলিং এজেন্টকে প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টা প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরে এটি বাড়িয়ে তিন ঘণ্টা করা হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়সীমার মধ্যে কেন্দ্রে কী ঘটেছে তা উদ্ভাসিত করতে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যে উঠে আসে, কেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তার এজেন্টকে যে বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তা প্রশাসনের কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই হয়েছে। তার অভিযোগ, এ সময় চেকিং করা হয়েছে কেন্দ্রের কর্মকর্তা নয় বরং কেন্দ্রে উপস্থিত দলীয় লোকজনের মাধ্যমে। তিনি মন্তব্য করেন, এটি ২০২৬ সালের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য অগ্রহণযোগ্য এবং এ ধরনের আচরণ জনগণের ভোটাধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাঙ্গল প্রতীকের জাতীয় পার্টি এবং ধান প্রতীকের বিএনপি এক হয়ে ভোটের মাঠে অবস্থান নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই জোটের পেছনে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও ভারতের সমর্থন। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এ পরিস্থিতিকে জনগণের কাছে একটি ‘খেলা’ হিসেবে দেখাচ্ছেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এসব প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কেন্দ্রে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া রয়েছে। ভোটাররা প্রাণের ভয় উপেক্ষা করে কেন্দ্রে এসে ‘শাপলাকলি’ প্রতীকে ভোট প্রদান করছেন।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, তিনি ভোটারদের রায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তিনি সম্ভাব্য বিজয়কে নিজের হিসাবে দেখেন না; বরং এটিকে শহীদ উসমান হাদির বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ভোটাররা ন্যায় ও শান্তির প্রত্যাশায় ভোট দিচ্ছেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে কেন্দ্রে আসছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে প্রশাসনের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের নির্মূলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে উঠে আসে যে, তিনি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে ভীত নন। তিনি বলেন, যারা তাকে আগে আঘাত করেছে তাদের ক্ষমা করেছেন, কিন্তু যারা জালেম আচরণ করছে, তাদের বাংলার মাটির থেকে উচ্ছেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের সময় সহিংসতার প্রসঙ্গেও তিনি সতর্কবার্তা দেন। গতকাল তার দলের ১৩ জন কর্মী নির্বাচনি সহিংসতার শিকার হয়েছে। তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন বা সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে কাউকে আঘাত করা হলে সমর্থকরা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাবে।

এছাড়া তিনি তার সমর্থকদের অনুরোধ করেন, কোনোভাবেই আতঙ্কিত হবেন না এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের মাঠে উপস্থিত থাকবেন। তাঁর বক্তব্যে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রে উপস্থিত নারী ভোটাররা জানান, প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তারা ভোট দিতে উৎসাহী। এক নারী ভোটার বলেন, “আমরা ভোট দিতে বাধ্য এবং আমাদের ভোটের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কেন্দ্রে এমন পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও আমরা সাহসী। নাসীরুদ্দীন আমাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করছেন, তাই আমরা ভয় পাচ্ছি না।”

কেন্দ্রে উপস্থিত নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, ভোটগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। তবে, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর অভিযোগ অনুযায়ী, কেন্দ্রের ভেতরে কিছুটা অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। তারা আশ্বাস দেন যে, সিসিটিভি ফুটেজ ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে, যাতে ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর এই অভিযোগ এবং সতর্কবার্তা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের দিকে নজর দেয়। তার বক্তব্য প্রকাশ করে যে, ভোটারদের নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার ক্ষেত্রে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ভূমিকা অপরিহার্য।

এদিন কেন্দ্র পরিদর্শনে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সঙ্গে স্থানীয় ভোটাররা কথা বলেন। তারা জানান, কেন্দ্রের ভেতরে বিরূপ পরিস্থিতি সত্ত্বেও তারা ভোট দিতে উৎসাহী। এক যুবক ভোটার বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে চাই। আমাদের ভোট যেন অকারণে প্রভাবিত না হয়, তাই প্রশাসনের সঠিক নজরদারি প্রয়োজন।” এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে চাচ্ছেন এবং কেন্দ্রের অনিয়ম সম্পর্কে সচেতন।

নির্বাচনের দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর অভিযোগ ও সতর্কবার্তা ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নির্বাচনের সময় যথাযথ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। এছাড়া এটি ভোটারদেরও উৎসাহিত করছে, যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয় এবং ভোট প্রদান করে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে।

নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগগুলোর প্রতি নজর রাখছে এবং ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর দাবির মধ্যে রয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, যাতে ভোটাররা কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া অনিয়ম সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়।

এভাবে, মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা এবং ভোটারদের সাহসিকতা একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেখাচ্ছে যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা একসাথে কাজ করলে ভোটের স্বচ্ছতা এবং সুষ্ঠু প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত