সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩২.৮৮: ইসি সচিব

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার
সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩২.৮৮: ইসি সচিব

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সমমুখী গণভোটের প্রথম চার ঘণ্টায় সারা দেশে ভোট পড়েছে ৩২.৮৮ শতাংশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের ৪২ হাজার ৬৫১টি ভোটকেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এ সময়ে ৩২ হাজার ৭৮৯টি কেন্দ্রে ভোটের প্রক্রিয়া চলমান ছিল।

ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের শুরু থেকে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা সাময়িক এবং এখন পর্যন্ত কোনো কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়নি। তিনি আরও জানান, নির্বাচন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখার জন্য সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় মাঠে আছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যারা ভোটের পরিবেশ শান্ত ও সুষ্ঠু রাখতে নজরদারি করছেন।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) হিসেবে ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫০টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে আজ ভোট হচ্ছে ২৯৯টি আসনে, শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত রয়েছে।

ভোটারদের মধ্যে এই নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিনের শঙ্কামুক্ত ও সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের ভোটাররা সকালে থেকে নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিশেষভাবে তরুণ প্রজন্ম ভোট কেন্দ্রে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন। নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিচ্ছেন। প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে ভোট দিতে পারছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বন্দিরা।

নির্বাচনের এই ধাপে ভোটাররা শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নয়, রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পর্কিত গণভোটেও অংশগ্রহণ করছেন। সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোটের প্রক্রিয়া চলছে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম ও শহরে ভোট কেন্দ্রগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন যাতে ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হয়।

এছাড়া ভোটের দিনটি পরিচালনা করতে হাজারখানেক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি নজরদারি করছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি, নিরাপত্তা এবং ভোটের স্বচ্ছতা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই নজরদারি প্রক্রিয়া ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করছে এবং প্রতিটি ভোটার তাদের অধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারছেন।

রাজনীতিকরা বলেন, অনেক বছর পর জনগণ সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। গ্রামেগঞ্জে তরুণ, যুবক ও প্রবীণ ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তারা মনে করছেন, ভোটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ হবে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হবে।

এছাড়া ভোটের মধ্য দিয়ে ভোটাররা তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা প্রকাশ করছেন। ভোটপ্রদানের সময় নারীরা বিশেষভাবে সক্রিয়, অনেকেই দীর্ঘ লাইনেও ধৈর্য ধরে ভোট দিচ্ছেন। ভোট কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছেন। কেন্দ্রের কর্মকর্তারা ভোটারদের ভোট প্রক্রিয়া বোঝানোর জন্য বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন।

ঢাকা-১৫ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটের এই উৎসবমুখর পরিবেশে দেখা গেছে ভোটাররা একে দায়িত্বের সঙ্গে সঙ্গে আনন্দমুখর অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করছেন। নির্বাচনী প্রার্থীর উপস্থিতি এবং পোলিং এজেন্টদের পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা যোগ করেছে।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে এবং তারপর একসঙ্গে গণনা করা হবে। দুটি ভোটের ফলাফলও একই সঙ্গে ঘোষণা করা হবে, যাতে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এই ধাপে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, ভোটারদের দায়িত্ববোধ এবং প্রশাসনের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে।

সংক্ষেপে, সাড়ে চার ঘণ্টার ভোটগ্রহণে দেখা গেছে দেশের ভোটাররা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন, নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা হলেও তা নির্বাচনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারছে না। দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এই ভোট দিনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, যেখানে জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে ভোটের মধ্য দিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এই ধরনের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক সচেতনতা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা এবং ভোট প্রদানের গুরুত্বের প্রমাণ হিসেবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত