প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় সাতকানিয়া উপজেলার ছমদরপাড়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কেন্দ্র খোলার পরপরই প্রার্থীর উপস্থিতি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি করে। ভোট প্রদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি আনন্দিত। তার ভাষায়, ভোট কেবল একটি সাংবিধানিক অধিকার নয়, এটি জনগণের আমানত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং জনগণ ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের পক্ষে রায় দেবেন। তিনি আরও বলেন, লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার উন্নয়নে অতীতে বিভিন্ন অবদান রেখেছেন এবং ভবিষ্যতেও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ইকবাল হোসাইন বলেন, নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে এবং সকাল থেকে কেন্দ্রের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, ভোটাররা শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন। তিনি আশা করেন, দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪১০ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৭ জন। ভোটগ্রহণের জন্য ১৫৭টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৯৫৯টি। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য ১৪ হাজার ২৭২ জন নিবন্ধন করেছেন।
সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। অনেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেন্দ্রে এসেছেন। প্রবীণ ভোটারদের সহায়তায় স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ। প্রথমবার ভোট দিতে আসা কয়েকজন তরুণ জানান, দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তাদের জন্য গর্বের।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে নির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ভোটের দিনটি এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারা দেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পর্যবেক্ষক দল মাঠে কাজ করছে। প্রযুক্তিগত নজরদারির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চট্টগ্রাম-১৫ আসন বরাবরই আলোচিত একটি এলাকা। উপকূলীয় এই অঞ্চলে প্রবাসী ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, ফলে পোস্টাল ব্যালটের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্থানীয় উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলো এখানে ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য। শাহজাহান চৌধুরী তার বক্তব্যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরলেও অন্যান্য প্রার্থীরাও নিজেদের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারায় সন্তুষ্ট। কয়েকজন ভোটার বলেন, অতীতের তুলনায় এবার কেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নারী ভোটারদের জন্য আলাদা সারি এবং প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দিনের শুরুতে প্রার্থীর নিজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়া একটি প্রতীকী বার্তা বহন করে। এটি ভোটারদের মধ্যে আস্থা ও উৎসাহ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিন দেশের অন্যান্য আসনের মতো চট্টগ্রাম-১৫ আসনেও ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে। ভোটের শেষ পর্যন্ত এই পরিবেশ বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে সবার দৃষ্টি রয়েছে। তবে সকালবেলার চিত্রে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও প্রশাসনের প্রস্তুতি আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভোট একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। লোহাগাড়া-সাতকানিয়ার মানুষ সেই ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে সকাল থেকেই কেন্দ্রমুখী হয়েছেন। শাহজাহান চৌধুরীর ভোট প্রদান এবং তার প্রত্যাশার বক্তব্য এই নির্বাচনী দিনের একটি অংশ মাত্র; শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই নির্ধারণ করবে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রতিনিধিত্ব। শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেই রায় প্রকাশ পাবে—এমন প্রত্যাশাই এখন ভোটারদের।










