ঢাকা-৯ এ নারী ভোটারের উৎসবমুখর ভিড়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৯ বার
ঢাকা-৯ এ নারী ভোটারের উৎসবমুখর ভিড়

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন আসনের মতো ঢাকা-৯ আসনেও সকাল থেকে লক্ষ্য করা গেছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে এ আসনের চিত্রে যে বিষয়টি বিশেষভাবে দৃষ্টি কাড়ছে, তা হলো নারী ভোটারদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। কেন্দ্র খোলার পরপরই নারীদের দীর্ঘ সারি, বিশেষ করে তরুণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নির্বাচনকে ঘিরে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ০১, ০২, ০৩, ০৪, ০৫, ০৬, ০৭, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মানিকনগরের বিস্তৃত আবাসিক এলাকা অন্তর্ভুক্ত। মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৮২ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৬৯টি। প্রার্থী রয়েছেন ১২ জন।

সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মদিনাবাগ ন্যাশনাল স্কুল কেন্দ্রের সামনে নারী ভোটারদের লাইন দীর্ঘ হতে দেখা যায়। বয়স্ক ভোটারদের পাশাপাশি তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ২৩ বছর বয়সী ভোটার সাম্মি আখতার মা ও ছোট বোনকে নিয়ে কেন্দ্রে এসেছেন। তিনি জানান, তাদের পরিবার দীর্ঘ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। এবার ভোট দিতে পেরে তারা আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। তার কথায় স্পষ্ট ছিল এক ধরনের আবেগ— ভোট দেওয়া শুধু দায়িত্ব নয়, এটি অধিকার ফিরে পাওয়ার অনুভূতিও।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মেহেদী হাসান জানান, কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ২ হাজার ২৮২ জন। বেলা ১টা পর্যন্ত ৭১২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা প্রায় ২৭ শতাংশ। তিনি বলেন, চারটি বুথের সবকটিতেই ভোটগ্রহণ সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। নতুন তরুণ ভোটারদের লাইনে ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভোটগ্রহণ পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মদিনাবাগ কিন্ডারগার্টেন কেন্দ্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। এই নারী ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৬৮৪ জন। দুপুরের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬০০ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ায় তারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পেরেছেন। কয়েকজন নারী ভোটার বলেন, অতীতে নানা কারণে ভোট দিতে না পারলেও এবার তারা আগ্রহ নিয়ে অংশ নিচ্ছেন। কেউ কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে কেন্দ্রে এসেছেন, যা অনেকটা উৎসবের আবহ তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নগরভিত্তিক এই আসনে নারী ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শহুরে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে শিক্ষিত তরুণীদের সংখ্যা বেড়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও ভোটদানে আগ্রহে প্রতিফলিত হচ্ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় তরুণ প্রজন্ম নির্বাচনী প্রচারণা, প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছে। এর প্রভাব ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতিতে প্রতিফলিত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ঢাকা-৯ আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক এনসিপি নেত্রী তাসমিন জারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার প্রতীক ফুটবল। নির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে আপাতত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

ভোটগ্রহণের শুরুতে কিছু কেন্দ্রে উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী ভোটারদের সারি দীর্ঘ হয়েছে। বিশেষ করে কর্মজীবী নারীরা সকালবেলার ব্যস্ততা সেরে দুপুরের আগে ভোট দিতে এসেছেন বলে জানা গেছে। প্রবীণ নারীদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রবীণ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ ভোটারদের সহায়তা করছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে। ঢাকা-৯ আসনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এই নির্বাচনে নারী ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ কেবল প্রার্থী বা প্রতিনিধিত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভোটকেন্দ্রে তাদের উপস্থিতিও গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি নির্মাণে ভূমিকা রাখে।

দিনের শেষে ভোটের হার কত দাঁড়ায়, তা জানা যাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণায়। তবে দুপুর পর্যন্ত যে চিত্র দেখা গেছে, তাতে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী আবহকে বিশেষভাবে প্রাণবন্ত করেছে। দীর্ঘ সময় পর অনেক পরিবার একসঙ্গে ভোট দিতে পেরে যে আবেগ প্রকাশ করেছে, তা গণতান্ত্রিক চর্চার এক মানবিক দিক তুলে ধরে।

ভোটের ফলাফল যাই হোক, এদিনের নারী অংশগ্রহণ একটি বার্তা স্পষ্ট করেছে— নাগরিক অধিকার প্রয়োগে তারা আর পেছনে নেই। ঢাকা-৯ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত